দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আতলেতিকো মাদ্রিদ এখন এক নতুন স্বপ্নযাত্রার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। শনিবার রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনাল ম্যাচটি তাদের সামনে সুযোগ করে দিয়েছে দীর্ঘ পাঁচ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর। এটি কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং বড় কিছু অর্জনের পথে এক জোরালো বার্তাও হতে পারে।
গত মঙ্গলবার বার্সেলোনার তীব্র লড়াই সামলে ৯ বছর পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পা রেখেছে সিমিওনের দল। নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হারলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ হাসি হাসে তারা। আগামী ২৯ এপ্রিল মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান টেবিল টপার আর্সেনালের।
বিজ্ঞাপন
তবে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামার আগে লা কারতুজা স্টেডিয়ামে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ফাইনালের দিকেই এখন পুরো নজর। আতলেতিকো তাদের ১১তম স্প্যানিশ কাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে, যা তারা শেষবার জিতেছিল ২০১৩ সালে। অন্যদিকে পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জোর অধীনে সোসিয়েদাদ বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে।
সিমিওনের জন্য এই মৌসুমটি হতে পারে এক বড় মোড় পরিবর্তনকারী সময়। ২০১১-১২ মৌসুমের মাঝামাঝি দায়িত্বে আসার পর তিনি আতলেতিকোকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তার অধীনে ক্লাবটি দুটি ইউরোপা লিগ, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল, ২০১৪ ও ২০২১ সালে লা লিগা এবং ২০১৩ সালে কোপা দেল রে জিতেছে। ইউরোপের মঞ্চে চেলসি, এসি মিলান এবং বায়ার্ন মিউনিখের মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে এক সময় তারা 'নকআউট বিশেষজ্ঞ' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
কিন্তু ২০১৮ সালে ইউরোপা লিগ জয়ের পর সেই ধার কিছুটা যেন ম্লান হতে শুরু করে। করোনাকালের দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে জেতা ২০২১ সালের লা লিগা শিরোপাটিই ছিল তাদের সর্বশেষ বড় সাফল্য। গত কয়েক মৌসুমে ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল বা কোপা দেল রের ফাইনালে উঠতে না পারায় সিমিওনের ওপর চাপ বাড়ছিল। এমনকি চলতি মৌসুমেও লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকে জানুয়ারি মাসেই ছিটকে গেছে দলটি, বর্তমানে তারা শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ২২ পয়েন্ট পিছিয়ে টেবিলের চার নম্বরে রয়েছে।
কিন্তু নকআউট ফুটবল যেন আবারও সেই পুরনো আতলেতিকোকে জাগিয়ে তুলেছে। কোপা দেল রের সেমিফাইনাল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লামিন ইয়ামালদের বার্সেলোনাকে বিদায় করে দিয়ে তারা এক দশক আগের সেই ভয়ংকর রূপের জানান দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ শেষে আবেগপ্রবণ সিমিওনে বলেন, "চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারানো সহজ কাজ নয়। আমরা মেসির বার্সাকে হারিয়েছি, ইয়ামালের বার্সাকেও হারিয়েছি এবং আমরা সফল হয়েছি। আমি এখানে ১৪ বছর ধরে আছি, দলের এই লড়াই আজও আমাকে রোমাঞ্চ জাগায়। খেলোয়াড় বদল হয়েছে, অনেকবার আমাদের নতুন করে শুরু করতে হয়েছে এবং আবারও আমরা ইউরোপের সেরা চার দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলাটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।"
আতলেতিকো সমর্থকদের জন্য চিত্রনাট্যটা এখন বেশ আকর্ষণীয়: শনিবার কোপা দেল রের ফাইনাল, এরপর আর্সেনালের চ্যালেঞ্জ এবং দিগন্তে বুদাপেস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ। তবে সিমিওনের সেই চিরচেনা মন্ত্র মেনেই দলটি এখন এগোচ্ছে', একবারে কেবল একটি ম্যাচ'।




