একসময় ফুটবল মাঠ ছিল শিল্পের ক্যানভাস। বল পায়ে একজন খেলোয়াড় একাই তিন-চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চমৎকার সব মুভমেন্টে দর্শকদের মুগ্ধ করে দিতেন। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রকে অনেকেই একবিংশ শতাব্দীর সেরা ড্রিবলার মনে করেন। তার পায়ের অসাধারণ কারিকুরি, ফেইন্ট, স্টেপ-ওভার আর অপ্রত্যাশিত টার্ন এখনও ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। কিন্তু নেইমার নিজেই স্বীকার করছেন, আজকের ফুটবলে এই ‘জাদু’ ক্রমশ কমে আসছে।
সম্প্রতি জিগো স্পোর্টস চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘ফুটবল বদলে গেছে। এখন খেলা অনেক বেশি শক্তি, গতি আর শারীরিক তীব্রতার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে আমরা একটা পুরো প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলছি। যারা বল পায়ে বিশেষজ্ঞ, অর্থাৎ ড্রিবলার।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন আপনি পায়ের কাজের চেয়ে শুধু শারীরিক শক্তির ওপর জোর দেন, তখন আপনার প্রতিভার একটা বড় অংশ হারিয়ে যায়। ফুটবল এখন বড্ড বেশি শরীরসর্বস্ব হয়ে পড়েছে।’
ব্রাজিলের ফুটবলে ড্রিবলিংয়ের ঐতিহ্য সবসময়ই ছিল। রোনালদিনহোর যুগে এটা ছিল যেন দুধ-ভাত। নেইমারের পরও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো আর রায়ান চেরকির মতো কয়েকজন খেলোয়াড় মাঝেমধ্যে এই শৈল্পিক ড্রিবলিং দেখান। কিন্তু নেইমারের মতে, এর বাইরে আর তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ‘আজকাল এমন স্টাইলে খুব কম খেলোয়াড়কেই দেখা যায় ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, চেরকি। এছাড়া আর কারও নাম আমি বলতে পারছি না,’ বলেন তিনি।
আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনই এর মূল কারণ বলে মনে করেন নেইমার। আজকের খেলায় দ্রুত ট্রানজিশন, উচ্চ প্রেসিং, শারীরিক দ্বন্দ্ব আর ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে ঝুঁকি নিয়ে একক ড্রিবল করে বল এগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। কোচরা এখন দলীয় সংগঠন, পজিশনাল প্লে আর দ্রুত পাসিংয়ের ওপর জোর দেন। শারীরিক প্রস্তুতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, অনেক তরুণ খেলোয়াড় প্রথম থেকেই ড্রিবলিংয়ের মতো শৈল্পিক দক্ষতার চর্চা কমিয়ে দেন।
ড্রিবলিংয়ের রাজা হিসেবে নেইমারের স্থান এখনও অপরিসীম। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে তিনি এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে সর্বোচ্চ ৩৩৫টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেছিলেন। যা এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০২৫ সালে তিনি ৩০৭টি সফল ড্রিবল করেছেন। নেইমার যে ‘আকালের’ কথা বলছেন, ইয়ামাল সেখানে এক ঝলক আশার আলো দেখাচ্ছেন।




