বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কদের সম্মান জানাতে এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে চালু হয়েছে ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেলে ২১ জন অধিনায়কের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
এই কার্ডধারীরা স্টেডিয়ামে ফ্রি প্রবেশ, ভিভিআইপি পার্কিং, এসি লাউঞ্জ বা বিশেষ এনক্লোজারে খেলা দেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য বীমা এবং বিসিবির ডাক্তারদের ২৪ ঘণ্টা সেবা। এমন কয়েকটি বিশেষ সুবিধা পাবেন। তামিম ইকবাল বলেছেন, এটি অধিনায়কদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ছোট্ট কিন্তু অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিজ্ঞাপন
তবে এই উদ্যোগকে নতুন বৈষম্য হিসেবে দেখছেন সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আগে থেকেই অধিনায়করা এসি বক্সে খেলা দেখতে পেতেন, আর সাধারণ ক্রিকেটাররা গ্যালারিতে বসতেন। এখন কার্ড দিয়ে সেই বৈষম্য আরও বাড়ানো হয়েছে।
তাপস বৈশ্য লেখেন, ‘এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি! আর এখন তো কার্ড!’
তিনি জানান, শিগগিরই ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন তিনি। তিনি আরও যোগ করেন, ‘অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সবাই মিলে ১১ জন বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!’
উদাহরণ হিসেবে তিনি মোহাম্মদ রফিকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে? অধিনায়কদের হেলথ ইনস্যুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের!’
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, আত্মসম্মান থাকলে কোনো ক্রিকেটার এর প্রতিবাদ করবেনই। তিনি বলেন, ‘কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না। কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এ কারণে এখন সাবেক ক্রিকেটার পরিচয় দিতেও লজ্জা পাচ্ছেন তিনি। তার কথা, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য।’
শেষে তিনি তামিম ইকবালকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘আমি চাই আর যেন কখনোই কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে!’




