কানাডার ক্রিকেট অঙ্গনে বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) বর্তমানে দুটি সক্রিয় তদন্ত চালাচ্ছে, যার একটি সরাসরি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের একটি ওভারকে কেন্দ্র করে।
এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে কানাডার স্বনামধন্য অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর তথ্যচিত্র ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’-এর মাধ্যমে। শুক্রবার সিবিসি (কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) চ্যানেলে ৪৩ মিনিটের এই ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়। এতে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসনিক দুর্বলতা, খেলোয়াড় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং সংগঠিত অপরাধের সম্ভাব্য যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তথ্যচিত্র অনুসারে, তদন্তের আলোয় এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচের পঞ্চম ওভার। তখন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া (২২) বল করতে আসেন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার বাজওয়া অফ-স্পিন বোলিং করেন।
ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের রান তখন ২ উইকেটে ৩৫। কানাডার প্রথম দুই ওভারে পেসার জাসকরান সিং ও ডিলন হেইলিগার যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ রান দেন। তৃতীয় ওভারে সাদ বিন জাফর মেডেন ওভার করেন (লেগ বাই থেকে ১ রান আসে)। চতুর্থ ওভারে হেইলিগার ৫ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। এরপর বাজওয়ার ওভারে ঘটে বিতর্ক। প্রথম বল নো-বল, তারপর একটি ওয়াইড। দুটি বাউন্ডারিসহ ওভারে মোট ১৫ রান উঠে যায়। এই ওভারটিই এখন আইসিসির তদন্তের আওতায়।
আরেকটি তদন্ত চলছে সাবেক কোচ খুররাম চোহানের ফোন কথোপকথনের রেকর্ডিং নিয়ে। গত বছর ফাঁস হওয়া অডিওতে তিনি দাবি করেন, ক্রিকেট কানাডার সিনিয়র বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করতে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। রেকর্ডিংয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে, তবে প্রমাণ সাপেক্ষে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরেক সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে তাঁর ওপরও অযাচিত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। না মানায় চুক্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। পরে অন্যায় বরখাস্তের অভিযোগে তিনি ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে মামলাও করেন।
বিজ্ঞাপন
গত এক বছর ধরে ক্রিকেট কানাডা প্রশাসনিক অস্থিরতায় ভুগছে। সাবেক সিইও সালমান খানের নিয়োগ বিতর্কিত ছিল। আইসিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কারণ তিনি পূর্ববর্তী ফৌজদারি অভিযোগ গোপন রেখেছিলেন। ক্যালগারি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছিল (যা তিনি অস্বীকার করেছেন)। সম্প্রতি আমজাদ বাজওয়ার স্থলে আরভিন্দার খোসা বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
তথ্যচিত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ বিশ্বকাপের পুরস্কার অর্থ পেতে খেলোয়াড়দের দেরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে তারা চুক্তিবিহীন ছিলেন এবং চলতি বিশ্বকাপের আগে মাত্র চার মাসের জন্য স্বল্প পারিশ্রমিকে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এক সাবেক খেলোয়াড় হুমকির অভিযোগ তুলে সংগঠিত অপরাধ চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
আইসিসি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এগ্রেভ বলেছেন, “সিবিসি প্রচারিত অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে এসিইউ অবগত আছে। প্রতিষ্ঠিত কার্যপ্রণালী অনুসারে, এতে থাকা কোনো অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে এসিইউ নেই। আইসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রশাসনিক বিষয়গুলো, যেখানে সেগুলো আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত, সেখানে আইসিসি তার সাধারণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে বিবেচনা করে থাকে।"
তিনি আরও জানান, “আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট তিনটি মূল কাজ পরিচালনা করে: গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধ ও শিক্ষা এবং তদন্ত। এই কাজগুলো একই সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং যেখানেই খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্বাস করার মতো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকে, সেখানেই এগুলো প্রয়োগ করা হয়।”




