১০ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছে নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে টাইগারদের ‘নিউজিল্যান্ড মিশন’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। সিরিজটি শুধু ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, বাংলাদেশের জন্য এটি ঘরের মাঠে আধিপত্য ধরে রাখার সুযোগ এবং নিউজিল্যান্ডের জন্য তীব্র গরম, পরিবর্তিত সময়সূচি ও শক্তিশালী স্বাগতিক বোলিং অ্যাটাকের সঙ্গে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ। বিসিবি জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচের সময় পরিবর্তন করেছে। দিবা-রাত্রির পরিবর্তে এখন দিনের আলোতে খেলা হবে, যা শিশিরের প্রভাব কমিয়ে লড়াইকে আরও ন্যায্য করে তুলবে।
বাংলাদেশের নতুন নির্বাচক প্যানেল (হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে) পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ সিরিজ জয়ী অপরিবর্তিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য। পিএসএল খেলতে যাওয়া নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও তানজিদ হাসান ইতিমধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এই সিরিজকে সামনে রেখে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডের দল অনেকটাই অনভিজ্ঞ। আইপিএল ও পিএসএলে থাকা তারকারা অনুপস্থিত। ইনজুরি থেকে ফিরছেন উইল ও’রুর্কে, ম্যাট ফিশার, ব্লেয়ার টিকনারের মতো বোলাররা। অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
বিজ্ঞাপন
নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার প্রি-সিরিজ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গরম ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘গরমের কথা বললে নিউজিল্যান্ডের তুলনায় এখানকার আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের দ্রুত এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। সতেজ থাকা এবং পুরো ১০০ ওভার লড়াই করতে শরীরকে প্রস্তুত রাখাটাই এখন বড় ফ্যাক্টর।’
বাংলাদেশের পেসারদের মোকাবিলা করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন লাথাম। নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন বেশ অভিজ্ঞ। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানারা গত কয়েক বছরে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে রানা গত কয়েক সিজনে যেভাবে বল করছে, তা নজরকাড়া। আমরা তাদের নিয়ে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে প্রশংসা করে ওয়াল্টার বলেন, ‘বাংলাদেশের কয়েকজন অসাধারণ সিমার আছে এবং তারা সব দিক ঢেকে রেখেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে আমরা দেখেছি স্পিন-সিমের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি বদলায়। তারা দারুণ। যেভাবে কন্ডিশন বলবে, আমরা সেভাবে সাড়া দেব। আশা করি এটাই জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেবে।’
বাংলাদেশ শিবির থেকেও আত্মবিশ্বাসী সুর। নতুন নির্বাচক প্যানেলের লক্ষ্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ঘরের মাঠে আধিপত্য। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টাইগাররা পাকিস্তানকে হারিয়ে ফর্মে আছে।
বিজ্ঞাপন
সিরিজ জয়ের বড় কোনো লক্ষ্য না সেট করে শুরু থেকেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন মিরাজ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে প্রথম ম্যাচটি জিতে সিরিজে ভালো শুরু করাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো সিরিজ নিয়ে একসঙ্গে না ভেবে একটি করে ম্যাচ ধরে এগোনোর কথা জানিয়েছেন তিনি। মিরাজের ভাষায়, ‘শুরুটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনই বড় কোনো টার্গেট সেট করা ঠিক হবে না। যেহেতু তিনটি ম্যাচ আছে, আমরা ধাপে ধাপে সিরিজ এগোতে চাই এবং অবশ্যই প্রথম ম্যাচ জিতে নিতে চাই।’
অতীতের অপবাদ আর পরবর্তী বিশ্বকাপ ভাবনা মাথায় রেখে টাইগাররা এখন অবশ্য স্পোর্টিং উইকেটের দিকে ঝুঁকছে। তবে তারপরও কিছুটা হোম এডভান্টেজ থাকতেই পারে। তাতে দোষের কিছু দেখছেন না ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি মনে করেন, এই এডভান্টেজ দলকে বিশ্বকাপের আগে জয়ের বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, ‘আমরা যদি নড়বড়ে অবস্থায় বিশ্বকাপে যাই, পজিশন কীভাবে থাকবে? এই সিরিজগুলোতে আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নিলে ভালো প্রস্তুতি হবে বিশ্বকাপের। তেইশের বিশ্বকাপের আগে অনেক সিরিজ জিতেছি, আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, যদিও বিশ্বকাপে ভালো করতে পারিনি। আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
মিরাজের মতে, উইকেটের চেয়ে খেলোয়াড়দের ফর্ম ও পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজে আমরা ভালো উইকেটে খেলেছি। এই সিরিজেও ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করব। প্লেয়াররা যদি সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে যেকোনো উইকেট ম্যানেজ করা সম্ভব।’
মিরপুরের উইকেট প্রসঙ্গে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম বলেন, ‘উইকেট ভালোই লাগছে। স্পিন কিছুটা সাহায্য করবে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখানকার গরম নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। আমাদের ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে এবং সজীব থাকতে হবে। কাল ১০০ ওভার খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে নামব।’
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের মূল দল না আসলেও বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স এই দলটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকে ‘দ্বিতীয় সারির’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। সিমন্স বলেন, ‘আমি এটাকে দ্বিতীয় সারির দল বলব না। যেকোনো দেশ যে দল পাঠায়, সেটাই তাদের সেরা দল; বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্ষেত্রে। সেখানে সবসময় নতুন প্রতিভা উঠে আসে। এই খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটেই প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। হয়তো অনেকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম, কিন্তু তারা জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। তাই এদেরকে দ্বিতীয় দল ভাবার কোনো সুযোগ নেই।’
এসটি




