দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ মনে করেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্ফোরণ বিশ্ব ক্রিকেটের চেহারাই বদলে দিয়েছে, আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে আইপিএল।
বর্তমানে এসএ- ২০ লিগের কমিশনার হিসেবে কাজ করা স্মিথ কাছ থেকে দেখেছেন ক্রিকেটের এই রূপান্তর- টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাণিজ্যিক বিস্তার পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “আইপিএল সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাণিজ্যিক দিক থেকে, দর্শক সম্পৃক্ততা এবং খেলার মান- সব ক্ষেত্রেই এটি দেখিয়ে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট কত বড় হতে পারে। এরপর যত লিগ এসেছে, তারা আইপিএল থেকে কিছু না কিছু শিখেছে।”
২০০৮ সালে শুরু হওয়া আইপিএল এখন বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ক্রিকেটের ধরন নয়, এর বিপণন এবং উপভোগের ধরণও বদলে দিয়েছে এই লিগ। স্মিথের মতে, বিশ্বের অন্যান্য লিগগুলোও আইপিএলের কাঠামো, প্লেয়ার অকশন এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মডেল অনুসরণ করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের দ্রুত বিস্তারকে তিনি স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। সম্প্রচার দর্শক বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ায় এই ধারা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ভবিষ্যতের ক্যালেন্ডার নিয়ে স্মিথ বলেন, “আগাম বলা কঠিন, তবে যেদিকে ক্রিকেট যাচ্ছে, সেখানে হয়তো বিশ্বজুড়ে চার-পাঁচটি শীর্ষ লিগ থাকবে, যেগুলো আন্তর্জাতিক সূচিতে আলাদা উইন্ডো পাবে।”
তবে এই কাঠামোর মধ্যেও আইপিএলই শীর্ষে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। “আইপিএল পিরামিডের একেবারে ওপরে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এখানে আসে, আর আগ্রহও সবচেয়ে বেশি। অন্য লিগগুলোও সফল হতে পারে, তবে সূচি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে একে অপরকে সম্পূরক করে,” বলেন স্মিথ।
বিজ্ঞাপন
ভবিষ্যতে ভিন্ন লিগের সেরা দলগুলোকে নিয়ে ‘ক্লাব বিশ্বকাপ’-ধাঁচের টুর্নামেন্টের সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। যেখানে আইপিএল, এসএ২০, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগের মতো বড় লিগের চ্যাম্পিয়নরা একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে অনায়াসেই ক্লাব বিশ্বকাপের মতো কোনো টুর্নামেন্ট আমরা দেখতে পারি। ভাবুন তো, আইপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশসহ অন্যান্য বড় লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলছে!’
সাবেক এই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘এখন অনেক লিগেই যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে, তাই এই ভাবনার দারুণ সম্ভাবনা আছে। অবশ্যই এমন কিছু বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে অনেক কাজ করতে হবে, তবে এর ভিত্তিটা কিন্তু তৈরিই আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পুরোপুরি নতুন এক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।’
অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন নিয়েও আশাবাদী স্মিথ। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্রিকেট ফেরার বিষয়টিকে তিনি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “অনেক বছর ধরে অলিম্পিক ক্রিকেটের অংশ ছিল না। ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ বা আইপিএল, অলিম্পিক নয়। কিন্তু অলিম্পিকের গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা।”
১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। স্মিথের মতে, এটি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন স্বপ্ন তৈরি করবে- অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন।




