আধুনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে লোভনীয় অফার আর চুক্তির টানাপোড়েন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। জিম্বাবুয়ের লম্বা পেসার ব্লেসিং মুজাবারানিও সেই টানাপোড়েনে পড়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিলেন— পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ছেড়ে ভারতের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) যোগ দিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে তাকে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে পিএসএলের আগামী দুই আসর থেকে নিষিদ্ধ করেছে।
জিম্বাবুয়ের ডানহাতি পেসার ব্লেসিং মুজাবারানি এবারের পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু আইপিএলের লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে তিনি পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন।
বিজ্ঞাপন
কেকেআর তাকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়ার পর। গত বছরের ডিসেম্বরে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে হয় কেকেআরকে। এছাড়া চোটের কারণে ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানাও আইপিএল থেকে ছিটকে যান। বোলিং বিভাগে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতেই মুজাবারানিকে দলে নেওয়া হয়।
পিএসএল থেকে সরে আসার এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় পিসিবি। তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পিসিবি এবং পিএসএল কর্তৃপক্ষ মিলে মুজাবারানিকে পিএসএলের পরবর্তী দুটি আসর থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পিএসএল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও অখণ্ডতা নির্ভর করে খেলোয়াড়দের নৈতিক আচরণ ও চুক্তি মেনে চলার ওপর। চুক্তি লঙ্ঘন করে এমন আচরণ লিগের পেশাদার পরিবেশ নষ্ট করে। তাই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাকে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করছে।
পিসিবি জানিয়েছে, খেলোয়াড় একবার লিখিতভাবে চুক্তিতে সম্মতি দিলে তা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙা পেশাদার ক্রিকেটের নীতিমালার পরিপন্থী। তারা আরও বলেছে, পারস্পরিক বিশ্বাস ও চুক্তির নিশ্চয়তার ওপরই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট দাঁড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আইপিএলে কেকেআরের হয়ে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছেন মুজাবারানি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৩৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪১ রান খরচ করে নিয়েছেন ৪ উইকেট, যা তার আইপিএল অভিযানের এখন পর্যন্ত সেরা পারফরম্যান্স।




