ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনহোর জীবন যেনো মাঠের বাইরেও নাটকীয় মোড় নিয়েছে বারবার। ২০২০ সালের সেই আলোচিত জাল পাসপোর্ট ঘটনায় যে নারীর নাম বারবার উঠে এসেছে, তিনি আর পালিয়ে বেড়াতে পারলেন না। ছয় বছর ধরে ফেরারি থাকার পর অবশেষে ধরা পড়লেন প্যারাগুয়ের ব্যবসায়ী দালিয়া লোপেজ।
প্যারাগুয়ের আদালত সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দালিয়া লোপেজকে (৫৫) প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনে পাঠিয়েছে। তাকে এখন অ্যাসুনসিয়ন থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে এম্বোসকাদা শহরের মহিলা কারাগারে রাখা হবে। আদালত তাকে ফ্লাইট রিস্ক (পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা) বলে বিবেচনা করেছে।
বিজ্ঞাপন
দালিয়া লোপেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রোনালদিনহো (রোনাল্ডো দে আসিস মোরেইরা) এবং তার ভাই ও এজেন্ট রবার্তো দে আসিস মোরেইরাকে জাল প্যারাগুয়ান পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড সরবরাহ করেছিলেন। এই জাল দলিল নিয়ে ২০২০ সালের মার্চ মাসে রোনালদিনহো প্যারাগুয়ে গিয়েছিলেন একটি চ্যারিটি ইভেন্টে যোগ দিতে, যা দালিয়াই আয়োজন করেছিলেন।
দেশে পা রাখার মাত্র দুই দিনের মাথায় রোনালদিনহো ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা প্রায় এক মাস জেলে কাটান এবং পরে ১৬ লাখ ডলার জামিনে চার মাস হাউজ অ্যারেস্টে (হোটেলে নজরবন্দি) থাকেন। মজার বিষয়, ব্রাজিলিয়ান নাগরিক হিসেবে শুধুমাত্র জাতীয় আইডি দেখিয়েই তারা প্যারাগুয়েতে ঢুকতে পারতেন, পাসপোর্টের দরকার ছিল না। তাহলে কেন জাল দলিল নিয়ে গেলেন, সেটা এখনও রহস্য।
দালিয়া লোপেজ ছয় বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত ২ এপ্রিল অ্যাসুনসিয়নে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।




