যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগে ইরান বারবার ফিফার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় আয়োজন করা হোক। তবে ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সূচি ও ভেন্যুতে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে এবং একটি সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, “ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং ম্যাচগুলো যেখানে নির্ধারিত হয়েছে, সেখানেই হবে।” মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমও একই সুরে জানিয়েছেন যে, ভেন্যু বদলালে আয়োজনের লজিস্টিকস জটিল হয়ে পড়বে, তাই ফিফা এটি সম্ভব মনে করেনি।
বিজ্ঞাপন
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজসহ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করছেন না। তারা মেক্সিকোয় ম্যাচ আয়োজনের জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ফিফা এখন পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয়নি।
এমন অবস্থায় ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। যদি তা হয়, তাহলে ফিফা কীভাবে জায়গা পূরণ করবে—এ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে (হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে) বলা হয়েছে, ফিফা ভেতরে ভেতরে বিকল্প পরিকল্পনা ভাবছে। এশিয়া ও ইউরোপ থেকে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ কয়েকটি দল নিয়ে ছোট একটি প্লে-অফ টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ফিফা র্যাঙ্কিং ও প্লে-অফ পারফরম্যান্স বিবেচনায় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি সুযোগ পেতে পারে। ইতালি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে প্লে-অফ ফাইনাল হেরে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে।
তবে ইতালির যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এ বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “এটি মহাদেশীয় বিষয়। ইউরোপের ভেতরে কোনো সমস্যা না হলে এখানে ইস্যু তৈরি হওয়া খুবই কঠিন। আমি তা মনে করি না এবং আশাও করি না।”
বিজ্ঞাপন
ফিফা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি যে ইরানের জায়গায় কোনো দলকে সরাসরি নেবে কি না। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল সরে গেলে ফিফা নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বর্তমানে ফোকাস রয়েছে ইরানকে বিশ্বকাপে রাখার চেষ্টায়।




