বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

পদত্যাগের ৫ দিন পরই না ফেরার দেশে কিংবদন্তি কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

পদত্যাগের ৫ দিন পরই না ফেরার দেশে কিংবদন্তি কোচ

রোমানিয়ার কিংবদন্তি ফুটবল ব্যক্তিত্ব মিরচা লুচেস্কু আর নেই। খেলোয়াড় ও কোচ- দুই ভূমিকাতেই অসংখ্য শিরোপা জেতা এই মহান ফুটবল ব্যক্তিত্ব ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।

মঙ্গলবার বুখারেস্ট ইউনিভার্সিটি ইমার্জেন্সি হাসপাতাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। শুক্রবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।


বিজ্ঞাপন


হাসপাতালের বিবৃতিতে বলা হয়, “মিরচা লুচেস্কু ছিলেন রোমানিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল কোচ ও খেলোয়াড়। ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো রোমানিয়া জাতীয় দলকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তুলেছিলেন তিনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছে জাতীয় প্রতীক হিসেবে।”

১৯৪৫ সালের ২৯ জুলাই বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া লুচেস্কু রোমানিয়ার ফুটবলের এক কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হন- প্রথমে খেলোয়াড় এবং পরে কোচ হিসেবে। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এর তিন দিন আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তুরস্কের কাছে হেরে আসর থেকে ছিটকে যায় রোমানিয়া। পদত্যাগ করার পাঁচ দিন পরই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি কোচলুচেস্কু। 

খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭০ বিশ্বকাপে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লুচেস্কু। প্রায় অর্ধশতকজুড়ে বিস্তৃত তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে। পূর্ব ইউরোপের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সোভিয়েত পতন থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধ সবকিছুর মধ্য দিয়েই তার কোচিং যাত্রা চলেছে।

ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কে টানা ১২ বছর কোচিং করিয়ে বড় সাফল্য পান লুচেস্কু। ধনকুবের রিনাত আখমেতভের সহায়তায় গড়া দলে ব্রাজিলিয়ান তরুণদের নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরি করেন তিনি। তার অধীনেই ক্লাবটি নিয়মিত চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা শুরু করে এবং ২০০৯ সালে জেতে উয়েফা কাপ।


বিজ্ঞাপন


২০১৬ সালে শাখতার ছাড়ার সময় ক্লাবটি নিজেদের শহর দোনেৎস্ক ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল, রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলের কারণে। পরবর্তীতে রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ ও ইউক্রেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ডায়নামো কিয়েভে কাজ করলেও শাখতার সমর্থকদের কাছে সেসব সিদ্ধান্ত ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোমানিয়ার পাশাপাশি তুরস্কের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন লুচেস্কু। ২০২৪ সালে তিনি আবার রোমানিয়া দলের দায়িত্ব নেন, প্রথমবার ছাড়ার ৩৮ বছর পর।

ইতালির পিসা, ব্রেসিয়া, রেজিয়ানা ও ইন্টার মিলানেও কোচিং করিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ব্রেসিয়াতে তার সময়টা আজও স্মরণীয়। সেখানে নিজের দেশের চার ফুটবলারকে দলে ভেড়ানোর কারণে দলটির নাম হয়ে যায় ‘ব্রেসিয়া রোমেনো’। সেই দলে ছিলেন রোমানিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার জর্জে হাজিও, যিনি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার মাঝের সময়ে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর