বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক অভাবনীয় পটপরিবর্তন ঘটল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
মাঠের লড়াই ছেড়ে এবার প্রশাসনিক ময়দানে পা রাখলেন দেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার। গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে ওল্ড ডিওএইচএস-এর কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও শেষ মুহূর্তে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিনি এখন বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের ক্রিকেটের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন।
বিজ্ঞাপন
৩৭ বছর বয়সী তামিম ইকবাল এখন বিসিবির ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ সভাপতি। অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে কমিটিকে বিসিবির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজিম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
এনএসসির সিদ্ধান্ত এসেছে গত নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারেই বর্তমান বোর্ড ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে জানানো হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না? এনএসসির পরিচালক বলেছেন, আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গঠনতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিবির মূল সংবিধানে অ্যাডহক কমিটি নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তামিমসহ অন্যদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বাধা থাকার কথা নয়। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই অ্যাডহক কমিটির সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ- প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা। মাঠে ব্যাট হাতে যে দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব দেখিয়েছেন তামিম, প্রশাসনিক লড়াইয়েও সেই একই সাফল্য দেখাতে পারবেন কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

