কার্লো আনচেলত্তির অধীনে হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে আছে ব্রাজিল। তবে সেলেসাওদের এই অভিযানে এখনো সঙ্গী হওয়ার সুযোগ আসেনি নেইমার জুনিয়রের। ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয়কে এখনো দলে ডাকেননি আনচেলত্তি। সবশেষ প্রীতি ম্যাচেও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ পাননি নেইমার। শেষ পর্যন্ত তিনি বিশ্বকাপ দলে ডাক পাবেন কি না তা নিয়েও আছে শঙ্কা। এরই মাঝে খবর, ফের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন নেইমার।
জাতীয় দলে ডাক না পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ছাড়ছেন না নেইমার। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর ক্লাব সান্তোসে খেলেই নিজের ছন্দে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। গোল করা ও গোল বানানো- দুই ক্ষেত্রেই রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচের দলে জায়গা না পাওয়ার পর আবারও হাঁটুতে একটি বিশেষ চিকিৎসা নিয়েছেন নেইমার। নেইমারের এবারের অস্ত্রোপচারের কারণ অবশ্য নতুন কোনো চোট নয়। বরং পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার লক্ষ্যেই এবার ছুরিকাঁচির নিচে গেছেন তিনি।
এই চিকিৎসায় নিজের রক্ত ব্যবহার করে শরীরের ছোটখাটো চোট দ্রুত সারানো ও জয়েন্ট শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়। প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাসমা ব্যবহার করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন এই তারকা। বিশ্বকাপের আগে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
সান্তোসে খেলার সময়ও কৌশলগতভাবে ম্যাচ বেছে খেলছেন নেইমার। সব ম্যাচে না নামায় শরীরের ওপর চাপ কমছে, ফলে পারফরম্যান্সও ভালো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। পরিসংখ্যানের বাইরেও মাঠে দলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই প্রভাব রাখছেন, সহখেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি ও আক্রমণ গড়ে তোলায়।
তবুও আনচেলত্তি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন নেইমারের ফেরার ব্যাপারে। তার বদলে তরুণ ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের দিকে নজর দিচ্ছেন, যাদের মধ্যে এন্দ্রিক, ইগর থিয়াগো ও লুকাস পাকেতা এগিয়ে। তবে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স চালিয়ে যেতে পারলে আবারও জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলতে পারে নেইমারের জন্য।
বিজ্ঞাপন
বারবার চোটে পড়ার পর আগের মতো গতি ও ড্রিবলিং আর নেই নেইমারের খেলায়। তবে নিজেকে বদলে আরও সৃজনশীল মিডফিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য এখনও বড় সম্পদ হতে পারে। মাঠে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের দৃষ্টি টেনে নেয়, ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা জোয়াও পেদ্রোর মতো খেলোয়াড়রা বেশি জায়গা পায়।
সব মিলিয়ে, পুরো ফিট হয়ে ফিরতে পারলে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন নেইমার—যদিও সেই সুযোগটা পেতে হলে এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে হবে তাকে।

