মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা যতই তীব্র লড়াই করে থাকুক, বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই ক্লাবের দুইতারকা একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি স্পেনের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে উঠে আসা ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধেসোচ্চার হয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল, আর তার এই সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করে সমর্থন জানিয়েছেন রিয়ালমাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
গত মঙ্গলবার স্পেনের বিপক্ষে মিশরের প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে কিছু সমর্থক “যে লাফায় না, সে মুসলিম” জাতীয়আপত্তিকর স্লোগান দেন। এটি মূলত মিশরীয় দলকে লক্ষ্য করে দেওয়া হলেও, মুসলিম ধর্মাবলম্বী ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল এটিকেগভীরভাবে আঘাতজনক মনে করেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, “আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে এমন স্লোগান শুনেছি।জানি এটি প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে, কিন্তু ধর্মকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের হাতিয়ার বানানো সম্পূর্ণ অসম্মানজনক ও অসহনীয়। ফুটবল উপভোগও সমর্থনের জন্য, কারও ধর্ম বা পরিচয় নিয়ে অপমান করার জন্য নয়।”
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার পর সোমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ইয়ামালের প্রতিক্রিয়াকেস্বাগত জানান। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “লামিন এ বিষয়ে মুখ খুলেছে, এটা খুবইগুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মতো পরিচিত খেলোয়াড়দের অর্থ ও প্রভাব আছে, তাই আমরা হয়তো এসব সামলাতে পারি। কিন্তু সাধারণমানুষ, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গরা যারা প্রতিদিন এমন আচরণের শিকার হন, তাদের জন্য লড়াইটা অনেক কঠিন। তাই আমাদের মতোযাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, তাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”
ভিনিসিয়ুস আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে বর্ণবাদী বলছেন না। প্রতিটি দেশেই কিছু বর্ণবাদী মানুষ থাকে। তবেবর্তমান প্রজন্ম যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এই লড়াই চালিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে আর এই ধরনেরঅভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত মাসে লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ নিয়েওঅভিযোগ তুলেছিলেন ভিনিসিয়ুস, যার তদন্ত শুরু করেছে উয়েফা।

