বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে নিয়মিতই। বিসিবির সবশেষ নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করে আসছে একটি পক্ষ। এদিকে একের পর এক পরিচালকরা পদত্যাগ করছেন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে। এদিকে এর মধ্যেই অক্টোবরের বোর্ড নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতায় অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এমন অবস্থায় বিসিবির বর্তমান বোর্ড টিকবে কি না তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে বিসবির এমন অস্থিরতায় আলোচনায় এসেছেন অন্তবর্তী সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময় কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিলেও তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাড়া দেননি।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাক্ষাৎকারে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। অপর এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পর্ষদ ভেঙে ফেলার পর আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিং করছেন।
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে নাজমুল হাসান পাপনকে অনুরোধ জানান।’

তিনি লিখেছেন, ‘এর আগেও বিসিবি নির্বাচনের সময় তার বিরাট কোহলির মাধ্যমে জয় শাহকে রিচ করার চেষ্টার বিষয়ে বলেছিলাম। অবৈধভাবে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি থেকে সম্ভাব্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা অন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা যেন গ্রহণ না করা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে জয় শাহকে অনুরোধ জানাতেই এসব লবিং।’
বিজ্ঞাপন
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘উল্লেখ্য, এর আগেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।’
সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি জাতীয়ভাবে গণভোট, জুলাই সনদ, অধ্যাদেশ বাতিল সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিসিবির ব্যাপারে কিছু বলবো না ভেবেছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আবারও পার্শ্ববর্তী দেশ এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের অন্তর্ভুক্তির পায়চারার খবর শুনে মনে হলো দেশবাসীর এসব জানা উচিত।’

