টানা পাঁচ জয়ে দারুণ ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই ম্যাচের জয়ও ছিল। আত্মবিশ্বাসে ভর করে মায়োর্কার মাঠে নেমেছিল দলটি। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ- দুই ফ্রন্টেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখছিল তারা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রথম ম্যাচেই ছন্দপতন।
মায়োর্কার কাছে হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এই হার আমার। দল নির্বাচন ও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আমারই ছিল।” তবে একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা নিয়ে।
বিজ্ঞাপন
নাম না বললেও এক খেলোয়াড়কে ইঙ্গিত করে কড়া সমালোচনা করেন কোচ। তার কথায়, “যখন আমরা ম্যাচে এগিয়ে ছিলাম, তখন একটি ভুল থেকেই গোল খেয়েছি। নিজের মার্কিং ঠিক না রাখা- এই ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে।” ইঙ্গিতটা ছিল এদুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গার দিকে।
মায়োর্কার প্রথম গোলটি আসে মানু মোরলানেসের পা থেকে। পাবোলো মাফেওর পাস ধরে একেবারে ফাঁকা জায়গা থেকে গোল করেন তিনি। সেই সময় ক্যামাভিঙ্গা পিছিয়ে পড়েন, যা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন সতীর্থ আন্তোনিও রুডিগারও। এই গোলই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
তবে ম্যাচের শুরুটা খারাপ ছিল না ক্যামাভিঙ্গার। প্রথম আধা ঘণ্টায় ৪৬টির মধ্যে ৪৩টি পাস সফল করেন, পাঁচবার বল পুনরুদ্ধার করেন এবং একটি সুযোগও তৈরি করেন। কিন্তু একটি ভুলই তার পুরো পারফরম্যান্সকে ঢেকে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তনের সময় প্রথম দিকেই তাকে তুলে নেন আরবেলোয়া। তার জায়গায় নামেন জুড বেলিংহাম।
এই পরিবর্তনটা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে এখন লড়াই করতে হচ্ছে ক্যামাভিঙ্গাকে। এমন পারফরম্যান্স তাকে বেঞ্চে ঠেলে দিতে পারে- এমন ইঙ্গিতই মিলছে। দল নির্বাচন নিয়েও ছিল কৌশল। থিয়াগো পিতার্চকে বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চে রাখা হয়, যাতে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে সতেজ রাখা যায়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে বেলিংহাম এখনও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট নন। কোচ নিজেই স্বীকার করেছেন, “কম সময় খেলার পর সেরা ছন্দ আশা করা স্বাভাবিক নয়। ধীরে ধীরে তাকে ছন্দে ফেরানোই লক্ষ্য।” সব মিলিয়ে ক্যামাভিঙ্গার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাকে বিক্রির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, আর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পিএসজি।

