রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আসিফ নজরুলকে নিয়ে বোমা ফাটাল বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

আসিফ নজরুলকে নিয়ে বোমা ফাটালেন বিসিবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের পর্দা উঠছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটিয়ে এবার সরাসরি কথা বললেন বিসিবি পরিচালকরা। গতকাল শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্রিকেটার ও বোর্ড দুই পক্ষই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত তাঁদের হাত-পা বেঁধে দেয়।

সবকিছুর সূত্রপাত কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা। আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কেনা এই পেসারকে হঠাৎ রিলিজ করার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পথে হাঁটে অন্তর্বর্তী সরকার। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই ইস্যুতে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। তিনি প্রথমে বলেছিলেন, ক্রিকেটাররাই ভারতে যেতে চাননি। কিন্তু এখন বিসিবি কর্তারা সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। 


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমরা ক্লিয়ার সিগনাল পেয়েছিলাম। আলোচনা হয়নি বলেই আমি জানি।’ 

নাজমুল আবেদিন ফাহিম সংবাদ সম্মেলনে আরও বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মুস্তাফিজ ইস্যুর পর বোর্ড প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা করে। তাদের ধারণা ছিল আলাপ-আলোচনা, দর কষাকষি হবে, ভারতীয় পক্ষ থেকে আশ্বাস আসবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত চলে আসায় আর কোনো পথ খোলা ছিল না। 

ফাহিম বলেন, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে মুস্তাফিজ ইস্যুর পর আমরা প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি অবশ্যই। আমাদের অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা ছিল। সরকার থেকে যখন একটা সিদ্ধান্ত চলে আসে তখন সেটাই ফলো করতে হয়েছে। আমরা যখন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তখন আমার ধারণা ছিল ওদের সাথে আলাপ আলোচনা করব, দর কষাকষি হবে। সরি বলবে, এই ব্যবস্থা করব সেই ব্যবস্থা করব বলবে। তারপর হয়ত আমরা রাজি হয়ে যাব যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে পথে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে আমরা যাব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৩ তারিখে বিপিএল ফাইনাল হলো। চট্টগ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে, দেরি হয়ে যাওয়ায় সিলেটে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হলো, তাড়াতাড়ি ঢাকা চলে আসতে হলো। আমরা চাইলেই ২ দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা শেষ করতে পারতাম। যে কারণে করিনি সেটা হলো আমাদের বিশ্বকাপে যেতে হবে। হয়তো আমরা ২৮ তারিখে যেতাম খেলার জন্য। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম বিশ্বকাপ খেলতে। সরকার নিরাপদ না বলার পর আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না। একপর্যায়ে আমাদের মতামত এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।’


বিজ্ঞাপন


মোখসেদুল কামাল বাবু সরাসরি বলেন, ‘বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে ছিল।’ পরিচালকরা জোর গলায় যোগ করেন, ‘পরিচালক হিসেবে কেউ, একজনও বিশ্বকাপ না খেলতে চায়নি। আমরা সবাই তাকিয়ে ছিলাম।’

বিসিবি কর্তারা জানান, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের নির্দেশ এসে পড়ায় বোর্ডকে তা মেনে নিতে হয়। ফলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্যত্র সরানোর দাবি আইসিসি প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় নেওয়া হয়।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর