চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে পরের দুই ম্যাচে খেলতে দিচ্ছেন না কোচ লিয়াম রোসেনিয়র। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা মন্তব্যে তিনি ‘সীমা অতিক্রম করেছেন’ বলেই এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছেন কোচ।
গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের পর এক সাক্ষাৎকারে এনজো বলেছিলেন, আগামী মৌসুমে তিনি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ড যা ব্রিটিশ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড- চেলসিতে যোগ দেওয়া ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৬১ ম্যাচ।
বিজ্ঞাপন
রোসেনিয়র জানিয়েছেন, শনিবার এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে ম্যাচ এবং ১২ এপ্রিল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ- দুটোতেই দলে থাকবেন না এনজো।
কোচ বলেন, “এনজোর এমন মন্তব্য হতাশাজনক। তার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলার নেই, তবে আমাদের সংস্কৃতি ও আমরা যা গড়তে চাই, তার দৃষ্টিতে একটি সীমা অতিক্রম হয়েছে। মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তাকে আমি সম্মান করি। সে হতাশ, কারণ দলকে সফল দেখতে চায়।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার একার নয়, ক্লাবের মালিকপক্ষ, খেলোয়াড় ও পরিচালনাও এতে একমত। তবে এনজোর জন্য দরজা বন্ধ হয়নি। “এটা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত। দলের সংস্কৃতি রক্ষা করতেই এটা করা হয়েছে,” বলেন রোসেনিয়র।
তবে শাস্তি পেলেও সহ-অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন না এনজো। কোচ বলেন, “আমি তার কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিচ্ছি না। সে সেটার প্রাপ্য নয়। আমরা শান্তভাবে কথা বলেছি। এখন দেখে মনে না হলেও, আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।”

বিজ্ঞাপন
তবে বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। এনজোর এজেন্ট হাভিয়ের পাস্তোরে এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অন্যায্য’ বলেছেন। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে এমন নিষেধাজ্ঞা দলের জন্যও ক্ষতিকর, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে এনজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
পাস্তোরে বলেন, “এনজো এ বছরের পারফরম্যান্সে নিজেকে নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছে। সে এই দলের মেরুদণ্ড। অথচ কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোচের সিদ্ধান্ত সে মেনে নিয়েছে পেশাদারিত্বের কারণে, কিন্তু আমরা এই শাস্তির যুক্তি বুঝতে পারছি না।”
একই সাক্ষাৎকারে এনজো অবশ্য জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি এবং আপাতত পুরো মনোযোগ চেলসিতেই। তবে বিশ্বকাপের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। আরেক সাক্ষাৎকারে স্পেনে বসবাসের ইচ্ছার কথাও বলেছেন এই মিডফিল্ডার।
এদিকে, কোচ রোসেনিয়র মনে করছেন, সাম্প্রতিক খারাপ ফলের কারণেই এমন মন্তব্য এসেছে। মার্চে টানা চার ম্যাচে হেরেছে চেলসি, যার মধ্যে পিএসজির কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে বড় ব্যবধানে হারও আছে। ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াও সম্প্রতি ভবিষ্যতে বার্সেলোনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদিও পরে জানান, আপাতত চেলসিতেই সুখী এবং আরও কয়েক বছর থাকতে চান।
রোসেনিয়র বলেন, “খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়নস লিগে বিশেষ কিছু করার জন্য ভীষণ অনুপ্রাণিত ছিল। এনজো ও কুকুরেয়ার মন্তব্য সেখান থেকেই এসেছে। তারা আসলে ক্লাবের ভালোর জন্যই বলেছে। কিন্তু এমন সময়ে আমাদের আবেগের দিক থেকে আরও স্থির থাকতে হবে।” জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে ১০ জয় পেয়েছে চেলসি, হেরেছে ৭টিতে এবং ড্র করেছে ২টি। প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলটি চতুর্থ স্থানের অ্যাস্টন ভিলার থেকে পিছিয়ে আছে ছয় পয়েন্টে।

