ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসোর পদত্যাগের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জুভেন্টাসের সাবেক এই তারকা গোলরক্ষক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
বিজ্ঞাপন
ইতালিকে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে তোলার লক্ষ্যেই তাকে দলে রাখা হয়েছিল। বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণদের চাপ সামলাতে সহায়তা করাই ছিল তার দায়িত্বের অন্যতম অংশ। তবে বসনিয়ার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায় ইতালির। এই হারের পরই বুফন তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, যদিও পরে তাকে কিছুটা সময় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এই ব্যর্থতা জাতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সম্মানিত নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও দলকে লক্ষ্য পূরণে পৌঁছাতে পারেননি বুফন।
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বুফন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তটা আমার ভেতর থেকে এসেছিল- একেবারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। যেমনটা ছিল সেই কষ্ট আর চোখের জল।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল কিছুটা সময় নিতে, সবাইকে ভাবার সুযোগ দিতে।”
“এখন প্রেসিডেন্ট গ্রাভিনা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, আমিও দায়িত্ববোধ থেকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন বোধ করছি। যদিও খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোচ গাত্তুসো ও দলের সঙ্গে আমরা অনেক কিছু গড়ে তুলেছিলাম, তবুও মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে বিশ্বকাপে ফেরানো, যা আমরা পারিনি।”
বিজ্ঞাপন
বুফনের এই পদত্যাগকে অনেকেই সম্মানজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। কারণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর নেতৃত্বের জায়গায় থাকা কঠিন- এটাই বাস্তবতা। তার বিদায়ের মাধ্যমে ইতালিয়ান ফুটবলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো, যেখানে সংকটময় সময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

