যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনার পর পুলিশকে টাইগার উডস জানিয়েছিলেন, তিনি “প্রেসিডেন্ট”-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি বিস্ময়ও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বডি ক্যামেরার ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে। গত সপ্তাহের সেই দুর্ঘটনার পরবর্তী মুহূর্তের ভিডিও মার্টিন কাউন্টি শেরিফ’স অফিস প্রকাশ করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেন, “দয়া করে এখানেই আমাদের সঙ্গে থাকুন।” এর জবাবে টাইগার উডস বলেন, “হ্যাঁ, আমি একটু আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছিলাম,” এ সময় তিনি হাতে থাকা ফোন দেখান।
বিজ্ঞাপন
১৫ মেজরজয়ী ৫০ বছর বয়সী এই গলফারকে এরপর সোব্রাইটি (মাদকাসক্তি) পরীক্ষা দিতে দেখা যায় এবং পরে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। এক কর্মকর্তা বলেন, “এই মুহূর্তে আমি মনে করছি আপনার স্বাভাবিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপনি অজানা কোনো পদার্থের প্রভাবে আছেন, তাই আপনাকে ডিইউআই (মদ্য বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো) অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
এ সময় উডস বিস্মিত হয়ে বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে?” গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে দুটি হাইড্রোকোডন পেইনকিলার পাওয়া যায়। পুলিশকে তিনি জানান, সেদিন তিনি কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধ নিয়েছিলেন। এছাড়া তার পিঠে সাতটি অস্ত্রোপচার এবং ডান পায়ে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচারের কথাও জানান তিনি।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, উডস বলছেন, “আমি ফোনের দিকে তাকিয়েছিলাম, হঠাৎ করে ধাক্কা লাগে।” এই ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেননি। পাশাপাশি ইউরিন টেস্ট দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আগামী মাস্টার্সে খেলার আশা থাকলেও, এই ঘটনার পর তিনি সাময়িকভাবে গলফ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আদালতের অনুমতিও পেয়েছেন। এক বিবৃতিতে উডস বলেন, “আমি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝি। নিজের সুস্থতার জন্য কিছু সময়ের জন্য খেলাধুলা থেকে দূরে থাকছি। সুস্থ হয়ে আরও ভালোভাবে ফিরতে চাই।”
বিজ্ঞাপন
ফুটেজে তিনি কোন “প্রেসিডেন্ট”-এর কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি উডসের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের একটি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার পরও ক্যারিয়ারে ফিরে এসেছিলেন উডস। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

