২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের দরজায় দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। চার বছর আগে কাতারে মেসির জাদুতে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবে তারা। কিন্তু প্রশ্নটা ইতিহাসের সেই অমর দলগুলোর মতো, ইতালি আর ব্রাজিলের মতো, আর্জেন্টিনা কি পারবে আবারও শিরোপা ধরে রাখতে? পারবে কি নিজেকে ফুটবলের সর্বকালের সেরা শক্তিগুলোর একটিতে পরিণত করতে?
ফুটবলের ইতিহাসে ব্রাজিলের নামই সবচেয়ে উজ্জ্বল ৫ বার বিশ্বকাপ জয় (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২)। ইতালি ৪ বার (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২, ২০০৬)। আর আর্জেন্টিনা মাত্র ৩ বার ১৯৭৮, ১৯৮৬ আর সেই অবিস্মরণীয় ২০২২। আর্জেন্টিনা ৬ বার ফাইনালে উঠেছে ৩ জয়, ৩ পরাজয়, কিন্তু ব্রাজিল-ইতালির মতো ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড নেই। ইতিহাস বলছে, শুধুমাত্র ইতালি (১৯৩৪-৩৮) আর ব্রাজিল (১৯৫৮-৬২) এই কীর্তি গড়েছে। আর্জেন্টিনা এবার সেই রেকর্ডের সামনে। যা কোনো দলই ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
ব্রাজিলের সঙ্গে রাইভালরি তো চিরকালের। ১১০ প্লাস ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল সামান্য এগিয়ে (৪৬ জয় বনাম আর্জেন্টিনার ৪৩), বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ব্রাজিল ২-১ জয়ী। কিন্তু আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকায় ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন্ ব্রাজিলের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা আর্জেন্টিনার ‘অনেক কাছে কিন্তু এখনও দূরে’র গল্প। মারাদোনার ১৯৮৬-এর জাদু আর মেসির ২০২২-এর অশ্রুসিক্ত বিজয়ের মাঝে ৩৬ বছরের খরা ছিল। এখন সেই খরা কাটিয়ে তারা আবার শীর্ষে।
২০২৬-এর আগে কনমেবল কোয়ালিফায়ারে আর্জেন্টিনা অপরাজেয় প্রায়। ১৮ ম্যাচে ১২ জয়, ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টপার হয়ে সরাসরি কোয়ালিফাই। মেসি এখনও আছেন, ইন্টার মিয়ামিতে ফর্মে। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি স্কোয়াডে, হয়তো শেষ বিশ্বকাপ! এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, জুলিয়ান আলভারেজ- এই কোর এখনও অটুট। নিকোলাস ওতামেন্দি ঘোষণা করেছেন, ২০২৬-এর পর অবসর। স্কালোনির দল এখন ‘ডায়নাস্টি’র মতো- গত চার বছরে কোপা আমেরিকা জয়, ফাইনালিসিমা জয়, আর সেই অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তা।
কিন্তু চ্যালেঞ্জও কম নয়। স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন, কিছু পুরনো তারকা বয়সের ছাপ নিয়ে লড়ছেন। ব্রাজিল এখনও শক্তিশালী, ফ্রান্স-ইংল্যান্ড-স্পেন অপেক্ষায়। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচই যুদ্ধ। তবু আর্জেন্টিনা ফেভারিটদের তালিকায় শীর্ষে।
জুন-জুলাই ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে মাঠে বসবে ২৩তম বিশ্বকাপের আসর। আর্জেন্টিনা যদি জিতে, তাহলে তারা তৃতীয় দল হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল-ইতালির পর যোগ দেবে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্লাবে। মেসি হয়ে উঠবেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুই বিশ্বকাপ জিতেছেন এত দূরের ব্যবধানে।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু ফুটবল কখনো সহজ নয়। একটা ভুল, একটা পেনাল্টি, একটা ইনজুরি সবকিছু বদলে দিতে পারে। আর্জেন্টিনা কি পারবে সেই চাপ সামলাতে? উত্তরটা অপেক্ষায়। ২০২৬-এর মাঠে। যেখানে মেসির শেষ হাসি হয়তো আর্জেন্টিনাকে চিরকালের জন্য ইতালি-ব্রাজিলের পাশে বসিয়ে দেবে। অথবা নতুন করে লিখবে আরেকটা গল্প।
এসটি

