চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এখন ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। পরশু রাতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে গেছে আজ্জুরিদের।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে থাকা ইতালি ৬৫তম স্থানে থাকা বসনিয়ার কাছে হারের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। রোমে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ২০১৪ সালের পর আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে না পারায় ফুটবলপ্রেমীরা হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছেন।
বিজ্ঞাপন
ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সরাসরি ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করে বলেছেন, “ইতালির ফুটবলকে গোড়া থেকে পুনর্গঠন করতে হবে। সংস্কার শুরু হতে হবে একেবারে উপর থেকে।”
২০১৮ সালে সুইডেনের কাছে, ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে এবং এবার বসনিয়ার কাছে হেরে ইতালি তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল। এই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এফআইজিসি প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।
তবে গ্রাভিনা এখনও পদত্যাগ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। আজ বিকেলে তিনি পেশাদার লিগ, খেলোয়াড় ও রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন। আগামী সপ্তাহে বোর্ড মিটিংয়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মাঠে যেখানে সমর্থকরা ক্ষুব্ধ, সেখানে কোচ জেনারো গাত্তুসোও ভেঙে পড়েছেন। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার ম্যাচের পর বলেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে। সত্যিই অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমার নিজের চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে এই ছেলেদের জন্য, যারা গত কয়েক মাসে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা এর যোগ্য ছিলাম না, তবু এটা বড় ধাক্কা।”
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের জুনে লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করে দায়িত্ব নেন গাত্তুসো। তার চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত। বিশ্বকাপে উঠলে মেয়াদ বাড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু এখন তার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। তবে গাত্তুসো বলেছেন, “এখানে আমাদের ইতালির কথা বলা উচিত, জাতীয় দলের জার্সির কথা বলা উচিত। আমার ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
এসটি

