শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হোটেলে অতিথি নিয়ে বিপাকে রাজা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বল ট্যাম্পারিংয়ের পর এবার হোটেলে অতিথি নিয়ে বিপাকে রাজা

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) একটি গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লাহোর কালান্দার্সের দুই তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা জড়িত এই ঘটনায় পাঞ্জাব পুলিশ পিএসএল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে।

গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে পিসি হোটেলে (যেখানে সব পিএসএল দলের খেলোয়াড়রা অবস্থান করছেন) নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে চারজন অননুমোদিত ব্যক্তিকে খেলোয়াড়দের ফ্লোরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের চিঠি অনুসারে, সিকান্দার রাজার পরিচিত চারজন ব্যক্তিকে প্রথমে লিয়াজোঁ অফিসারের মাধ্যমে অনুমতি চাওয়া হয়। পরে দলের মালিকও অনুরোধ করেন। কিন্তু পিএসএল সিইও সালমান নাসির এবং পিসিবির সিকিউরিটি ম্যানেজার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুবারই তা প্রত্যাখ্যান করেন।


বিজ্ঞাপন


তবু অভিযোগ বলছে, শাহিন আফ্রিদি ও সিকান্দার রাজা নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে জোর করে ওই চারজনকে হোটেলের আটতলায় রাজার রুমে নিয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা (রাত ১১:০৫ থেকে প্রায় ১:২৫ পর্যন্ত) অবস্থান করেন। পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এটিকে “স্থাপিত নিরাপত্তা বিধির গুরুতর লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি পিএসএল পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে টুর্নামেন্টটি শুধু লাহোর ও করাচিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং সব ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় অত্যন্ত কড়া প্রোটোকল বজায় রাখা হয়েছে। পুলিশের মতে, এই ধরনের লঙ্ঘন শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

অতিথি আনার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিকান্দার রাজা বলেছেন, ‘একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে আমি জন্মসূত্রে পাকিস্তানি। ফলে আমার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে আসতেই পারেন। নিয়মে বলা হয়েছে, আমি হোটেলের বাইরে যাওয়া যাবে না। আমি এটা সম্মান করি। শুরুর ৪ বছরে লাহোরে পিএসএলে খেলেছি, তখন আমার পরিবারের সদস্যরা টিম হোটেলে এসেছিল, একসাথে দেখা করেছি। গতকাল ৪ বন্ধু এসেছিল অনেক দিন পর তাদের সাথে দেখা হলো। আমার মনে হয় লাহোর কালান্দার্স পিসিবির সাথে এই ব্যাপারে কথা বলছে। আমরা সবসময় নিয়ম মেনেছি। আমাদের বলা হয়েছি আমরা বাহিরে যাব না। আমিও যাইনি। পরিবারের সদস্যদের সাথে বাইরে দেখা করা কিছুটা বেখাপ্পা (তাই ভিতরে নিয়ে গিয়েছি)। দয়া করে মনে রাখুন, আমি এখানে জন্মগ্রহণ করেছি তাই এখানে আমার পরিবারের অনেক সদস্য আছেন।’

রাজার আরও বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা এসেছিল। আমার বন্ধু এসেছিল। প্রথম চার বছরে এমন কিছুই হয়নি যে, বন্ধু-পরিবারের সদস্যরা আসতে পারবে না। এবারের এমন নিয়ম সম্পর্কে আমিও জানতাম না, শাহীনও জানত না। শাহীনের আসলে দোষ নেই। উপরে গিয়ে আমরা ৪০ মিনিটের মত বসেছিলাম। হোটেলে ঢোকার সময় তারা অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে তাদের আইডি কার্ডও দেখিয়েছে। আমি বলেছি যে, আমি তাদেরকে চিনি। ১৯ বছর ধরে আমি তাদেরকে চিনি। এখানে আমার আত্মীয়স্বজন আছেন। দয়া করে ভুলে যাবেন না। আমি পিসিবির লোকদের অনুরোধ করেছি এ ব্যাপারে। শাহীনকে আসলে আমি ডেকেছিলাম তাই সে গিয়েছে। তার আসলে কোনো দায় নেই।’


বিজ্ঞাপন


লাহোর কালান্দার্সের মিডিয়া হেড উমর ফারুক জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং পিএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এদিকে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পাঞ্জাব পুলিশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

পিএসএল কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে নিরাপত্তা প্রোটোকলের এমন লঙ্ঘন টুর্নামেন্টের পরিবেশে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর