ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে এই ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে মাসিক ১ লাখ টাকা বেতনের পাশাপাশি বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই বেতন সুবিধার আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স বজায় রাখবেন, কেবল তারাই এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। অন্যদিকে পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হবে।
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে আর্চারি, বক্সিং, যোগা, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, ফুটসাল, কাবাডি, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ একাধিক ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধি। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্যারা-অ্যাথলেটদেরও, যারা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা তাদের মেধা, পরিশ্রম ও দক্ষতা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং খেলাধুলাকে একটি নির্ভরযোগ্য পেশা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারগুলোকে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, 'খেলাধুলা যখন পেশায় পরিণত হবে, তখন পরিবারেও আর্থিক নিরাপত্তা আসবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের এই ভাতা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।'
ভাতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক অর্জনকারীদের জন্য বিশেষ এককালীন অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে:
ব্যক্তিগত ইভেন্টে- স্বর্ণপদক ৩ লাখ টাকা, রৌপ্যপদক ২ লাখ টাকা, ব্রোঞ্জপদক ১ লাখ টাকা।
দলগত ইভেন্টে- স্বর্ণপদক জয়ী দল ২ লাখ টাকা, রৌপ্যপদক জয়ী দল ১.৫ লাখ টাকা, ব্রোঞ্জপদক জয়ী দল ১ লাখ টাকা।
ক্রীড়া কার্ডের সুবিধাসমূহ
খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’। এই কার্ডধারীরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাবেন:
-আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা।
-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা।
-বিদেশি কোচের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা।
-খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
এসটি

