বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে আজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নিয়ে বেশ কড়া বক্তব্য রেখেছেন। বিসিবি নিয়ে কী ভাবছেন, প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিসিবির অর্থ ও জনবল নিয়ে অপকর্ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সময়ে বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে একটি গ্রুপ ভোটের অধিকার হরণে সহযোগিতা করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অপকর্মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, বিসিবির সাম্প্রতিক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নিয়ে কিছু তথ্য তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কোনো তদন্ত চলমান থাকে বা প্রয়োজন হয়, তাহলে তা জাতির সামনে উন্মোচন করা হোক।
সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেন, “২০০৮ সাল থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্রিকেট বোর্ডসহ পুরো ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের মাধ্যমে স্থবিরতা নিয়ে আসা হয়েছিল। এতে ক্রীড়াঙ্গন ধ্বংসের পথে চলে গিয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এখন দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণমুক্ত একটি স্বচ্ছ ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তুলছি।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৮ সালের পর যেসব অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো তদন্ত কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করে দ্রুত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।”
উল্লেখ্য, জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই তিনি বিসিবি নিয়ে সক্রিয় বক্তব্য রেখে আসছেন।
বিজ্ঞাপন
ইতোমধ্যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিসিবির গত ৬ অক্টোবরের নির্বাচন নিয়েও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তার লক্ষ্য।

