ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অর্থকরী ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। প্রতি বছর লাখো দর্শকের পাশাপাশি ক্রিকেটাররাও এতে অংশ নিতে উন্মুখ থাকেন। তবে এবারের আইপিএল ২০২৬-এ একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে। জাতীয় দলের প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে আইপিএলের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন একের পর এক ইংলিশ তারকা।
সাম্প্রতিক খবর অনুসারে, ইংল্যান্ডের ওপেনার বেন ডাকেট আইপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দিল্লি ক্যাপিটালস তাকে মিনি নিলামে মাত্র ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল। এটি ছিল তার আইপিএলে অভিষেকের সুযোগ। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। ইংল্যান্ডের আসন্ন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ফর্ম ফিরিয়ে আনা, ফিটনেস উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাকেট দিল্লি ক্যাপিটালসের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
বিজ্ঞাপন
ডাকেটের এই সিদ্ধান্তের পর দিল্লি ক্যাপিটালস রিপ্লেসমেন্ট খুঁজতে গিয়ে আরও দুই ইংলিশ ক্রিকেটারের দ্বারস্থ হয়। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জেমি স্মিথ এবং পেসার জশ টাংকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী দুই মাস ইংল্যান্ডেই কাটাতে চান বলে দুজনই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা জাতীয় দলের টেস্ট প্রস্তুতি এবং ফিটনেসকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আগের মৌসুমে ইংল্যান্ডের বর্তমান সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও আইপিএলে দল পেয়েও শেষ মুহূর্তে নাম সরিয়ে নেন, যার ফলে তাকে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসও আইপিএলের পুরো মৌসুম খেলার চেয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট সূচিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই প্রবণতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অভিনব কেন্দ্রীয় চুক্তি মডেল। একাধিক বছরের এই চুক্তি ইংলিশ ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা দেয়, যাতে তারা আইপিএলের বিপুল অর্থের টানে জাতীয় দলের দায়িত্ব উপেক্ষা না করেন। ফলে অনেকেই এখন আইপিএলের ঝলমলে আলোর চেয়ে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করাকেই বেশি মূল্যবান মনে করছেন।

