১৯৯৮ সালে করাচিতে জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ হাসান খান পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ নাম করেছিলেন। ২০১৬ সালে সিন্ধের হয়ে লিস্ট-এ অভিষেক করেন তিনি। ২০১৭ সালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে পিএসএলে অভিষেক হয় এবং প্রথম ম্যাচেই ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতেছিলেন। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন, এমনকি ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অধিনায়কত্বও করেছিলেন।
কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া এবং পিএসএলে ধারাবাহিক সুযোগের অভাবে তার ক্যারিয়ার থেমে যায়। ২০১৭-১৮ মৌসুমের পর পরবর্তী চার সিজনে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ২০২৩ সালের পিএসএল ড্রাফটে তাকে কেউ বেছে নেয়নি। এই হতাশায় তিনি পাকিস্তান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হাসান খান মাইনর লিগ ক্রিকেট দিয়ে শুরু করেন। ধীরে ধীরে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নজর কাড়েন। ২০২৪-২৫ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়ে খেলেন। সেখানে ভালো করায় মেলবোর্ন রেনিগেডসে (বিগ ব্যাশের দল) সুযোগ পান। অস্ট্রেলিয়ার এই টি-টোয়েন্টি লিগে তার অভিষেক হয় এবং তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন।

এছাড়া ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছেন। বিদেশি লিগগুলোতে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স (ব্যাটিং, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিন এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং) তাকে আবার আলোচনায় নিয়ে আসে। তবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হয়েও তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। যার জন্য চলমান পিএসএলে বিদেশি কোটায় খেলছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই অলরাউন্ডার।
২০২৬ সালের পিএসএলে প্রথমবারের মতো প্লেয়ার অকশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অকশনে হাসান খানকে ওভারসিজ ক্যাটাগরিতে রেজিস্টার করা হয়। নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসমেন লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে কড়া লড়াই করে তাকে ১.৮৫ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ায়। অস্ট্রেলিয়ান তারকা মার্নাস লাবুশেনকে ক্যাপ্টেন করে হাসান খানকে ভাইস-ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
পিএসএল শুরুর আগেই হাসান দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। টুর্নামেন্টের প্রথমদিকের ম্যাচে তিনি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া, পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেট ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা একজন খেলোয়াড়কে এখন বিদেশি কোটায় দেখে অনেকে বিস্মিত। কেউ বলছেন এটি তার প্রতিভার স্বীকৃতি। দেশে সুযোগ না পেয়ে বিদেশে গিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন, ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে চেয়েছে। আবার কেউ মনে করছেন, এমন ঘটনা দেশীয় প্রতিভাদের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।
হাসান খান নিজে বলেছেন, বিদেশি লিগে খেলে তার মধ্যে আবার জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন জেগেছে। তবে এই অলরাউন্ডার কোন দেশের হয়ে খেলবেন সেটাই এখন আলোচ্য বিষয়।

