২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হচ্ছে আগামীকাল থেকে, আর টুর্নামেন্টের ১৯তম আসরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গল্প, আবেগ, প্রত্যাশা আর জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) নতুন মৌসুম শুরু করছে ঘরের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তবে তার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে আরসিবি।
শ্রীলঙ্কান পেসার নুয়ান থুশারাকে তার দেশের ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেয়নি ফিটনেস টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায়। ফলে অন্তত প্রথম ম্যাচ তো বটেই, সম্ভবত শুরুর কয়েকটি ম্যাচেও তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন না।
বিজ্ঞাপন
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা নিশ্চিত করেছেন যে, থুশারা পাঁচটি ভিন্ন মেট্রিক্সে মোট ২৯ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ১৭ পয়েন্টের ন্যূনতম স্কোরও ছুঁতে পারেননি। এসএলসির নতুন কঠোর ফিটনেস নীতির কারণে তাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। তবে ভালো খবর হলো, চার-পাঁচ দিন পর আবার টেস্ট দেওয়ার সুযোগ আছে তার। যদি সেটাও পাস না করেন, তাহলে শ্রীলঙ্কার হয়ে কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক ক্রিকেট খেলা তার জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এর আগেই আরসিবি ইয়াশ দয়ালকে হারিয়েছে (ব্যক্তিগত কারণে পুরো মৌসুমের জন্য অনুপস্থিত)। অস্ট্রেলিয়ান পেসার জশ হ্যাজলউডের অংশগ্রহণ নিয়েও এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে; তিনি শুরুর ম্যাচগুলোতে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এই অবস্থায় থুশারার অনুপস্থিতি আরসিবির পেস অ্যাটাককে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
আরসিবি আগামীকাল (শনিবার) বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলবে। তারপর ৫ এপ্রিল চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে। থুশারা অন্তত এই দুটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার আরও দুই তারকা ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে চিন্তা রয়েছে। মাথিশা পাথিরানা (কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ১৮ কোটি টাকায় কেনা) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্যাল্ফ স্ট্রেনের কারণে চোট পেয়ে ছিটকে যান। বর্তমানে রিহ্যাব চলছে। কেকেআরের হেড কোচ অভিষেক নায়ার জানিয়েছেন, তিনি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দলে যোগ দিতে পারেন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (লখনউ সুপার জায়ান্টস, ২ কোটি টাকায় কেনা) হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের পর থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনিও এখনও ফিটনেস টেস্ট দেননি।
বিজ্ঞাপন
আরসিবির বোলিং ডিপার্টমেন্টে এখন চাপ বেড়েছে। ভুবনেশ্বর কুমার, রসিখ সালামের মতো দেশীয় বোলারদের পাশাপাশি অন্যান্য ওভারসিজ অপশনের (যেমন জ্যাকব ডাফি, রোমারিও শেফার্ড) উপর নির্ভর করতে হবে শুরুর দিকে। দলের ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত বিকল্প খুঁজতে হতে পারে।
থুশারার ক্ষেত্রে এখন সবকিছু নির্ভর করছে তার পরবর্তী ফিটনেস টেস্টের ফলাফলের উপর। যদি তিনি দ্রুত স্কোর করে ফেলেন, তাহলে হয়তো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে আরসিবির হয়ে মাঠে নামতে পারবেন। অন্যথায়, আরসিবির পেস বোলিং লাইন-আপকে নতুন করে সাজাতে হবে।
এসটি

