ঘরের মাঠে আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা নাম লেখাননি বলে জানিয়েছেন প্যাট কামিন্স। তবে অজি অধিনায়কের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিশাল অর্থের হাতছানি উপেক্ষা করে ক্রিকেটারদের এই দেশের জন্য খেলার নিবেদন চিরকাল একই অবস্থায় না-ও থাকতে পারে।
গত বুধবার প্রকাশিত বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে কামিন্সের এই বক্তব্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বিগ ব্যাশ লিগ বেসরকারীকরণ বিতর্কের মাঝে নতুন করে শঙ্কার ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২৩ বছর পর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের এই সিরিজ সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যস্ত এক মৌসুম শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজ থেকে আগামী দেড় বছরে মোট ২০টি টেস্ট খেলার সূচি আছে কামিন্সের দলের।
১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সিরিজ শুরুর আগেই অবশ্য মাঠে গড়াবে হান্ড্রেডের এবারের আসর। ২১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এবার টুর্নামেন্ট চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত।
ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ সিরিজকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের সুযোগ ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান কামিন্স।
“মজার বিষয়টি হলো, স্পষ্টতই অ্যাশেজ সিরিজে সব মূল খেলোয়াড়রা খেলতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, এই মৌসুমে দ্য হান্ড্রেডের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যেসব খেলোয়াড় ওই টেস্ট ম্যাচে খেলবে তারা হান্ড্রেডের নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটা চিরকাল এমন থাকবে না।”
বিজ্ঞাপন
“বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্য আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাওয়া ৫ লাখ পাউন্ডকে ‘না’ বলেছে।… এই মুহূর্তে আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই আগ্রহী যে তারা সানন্দে সেটি ত্যাগ করছে।”
এক প্রতিবেদনে ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, কামিন্সের উল্লেখ করা ৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) কিছুটা বাড়িয়ে বলা। দ্য হান্ড্রেডে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী হ্যারি ব্রুকের পারিশ্রমিক ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ড।
তবে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের পাঁচ সদস্য – কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, ট্র্যাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিনের আইপিএলে মূল্য বিচার করলে তারা অনায়াসেই হান্ড্রেডের নিলাম থেকে মোটা অংকের অর্থ আয় করতে পারতেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচ জিতলেই বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একজন অজি ক্রিকেটার ম্যাচ ফি এবং জয়ের বোনাস মিলিয়ে প্রায় ৬১ হাজার ৬৭৪ ডলার আয় করতে পারবেন। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় কয়েক সপ্তাহে এর কয়েকগুণ বেশি আয়ের সুযোগ থাকে তাদের।
উদাহরণ হিসেবে টিম ডেভিডের কথা বলা যেতে পারে। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার এই হার্ডহিটিং ব্যাটার এবারের হান্ড্রেডে আয় করবেন সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ড বা ৬ লাখ ৭৩ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

