ইরানে চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন। ২৬ দিন ধরে চলমান এই আগ্রাসনে ইরানে প্রায় ১৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া জানমালের ক্ষতি হয়েছে আরও বেশি। এদিকে চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় ঘনিয়ে আসছে যা আয়োজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে। বিশ্বকাপে ইরানের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আমেরিকায়। কিন্তু যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে ইরান আমেরিকায় গিয়ে খেলবে না বলেই জানিয়েছে।
এমতাবস্থায় ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজিত হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার মাঝেই নিউজিল্যান্ডের ফুটবল খেলোয়াড়রা বলেছেন যে, তারা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে খেলার জন্য প্রস্তুত।
বিজ্ঞাপন
এবারের বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করা প্রথম দিককার দল ছিল ইরান। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বাহিনীর চলমান সামরিক হামলার প্রতিবাদে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশটিতে কোনো ম্যাচ না খেলার কথা জানিয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অনিশ্চয়তা থাকলেও ইরানের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ২০১০ আসরের পর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া নিউ জিল্যান্ড। বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির ফুটবলাররা জানান, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচটি খেলতে রাজি আছেন তারা।
মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “ইরান যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে এসেছে এবং তাদের মাঠে থাকার অধিকার আছে। তাদের বিপক্ষে যদি আমাদের মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে খেলতে হয়, তবে আমরা তাতেই রাজি। এটি আমাদের জন্য খুব বড় কোনো বিষয় নয়।”
অন্যদিকে ৩৬ বছর বয়সী উইঙ্গার কোস্টা বারবারুসেস জানান, ভেন্যু পরিবর্তন তাদের প্রস্তুতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। “ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যারা দায়িত্বে আছেন তারাই নেবেন, আমরা শুধু আমাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।” বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে ক্যাম্প করবে নিউ জিল্যান্ড, যা মেক্সিকো সীমান্তের একদম কাছে। ফলে ম্যাচটি মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের জন্য যাতায়াত সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে গত সপ্তাহে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম ইরানের ম্যাচগুলো নিজ দেশে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফিফার হাতে। কিন্তু ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গ্রুপপর্বের বাকি দুটি ম্যাচও যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা আছে ইরানের। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ রয়েছে।

