অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লাগাতার হামলার ফলে যুদ্ধ বিরাজ করছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। যুদ্ধের এই প্রভাব এবার পড়ছে ক্রিকেট মাঠেও। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি জানিয়েছেন, চলমান আঞ্চলিক সংকটের কারণে আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দর্শকবিহীন অবস্থায় আয়োজন করা হবে।
রোববার লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের সাশ্রয় নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নকভি জানান, টুর্নামেন্টটি সীমিত করে শুধু করাচি ও লাহোর- এই দুই ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে, যাতে জনসমাগম ও দলগুলোর যাতায়াত কমানো যায়।
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে, তার বড় ধাক্কা লেগেছে পাকিস্তানে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে স্কুল বন্দ, হোম অফিস চালু করা সহ নানা উদ্যগ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এ বিষয়ে নকভি বলেন, ‘জ্বালানি–সংকটের কারণে প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশের মানুষকে চলাফেরা সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা স্কুল বন্ধ রেখেছি, হোম অফিস চালু করেছি এবং ঈদের ছুটিও বাড়িয়েছি। আমরা জানি না এই যুদ্ধ কত দিন চলবে।’
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি কতদিন চলবে আমরা জানি না। তবে পিএসএল আয়োজন করা জরুরি। এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, যেখানে বিদেশি খেলোয়াড়রাও অংশ নেয়। সবাই চায় টুর্নামেন্টটি হোক।” ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত চলবে পিএসএলের ১১তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়দরাবাদ কিংসম্যানর, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ম্যাচই বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নকভি। এর আগে মুলতান, পেশাওয়ার, ফয়সালাবাদ, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর -এই ছয় শহরকে ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে তা কমিয়ে আনা হয়েছে।
ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, যারা টিকিট কিনেছেন তারা মাঠে ঢুকতে পারবেন না। তবে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে পিসিবি। নকভি বলেন, “দর্শকরা টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন। এ অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।” নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
“আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য হুমকি আগেই প্রতিহত করেছে, এ জন্য আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত,” বলেন নকভি। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের সাশ্রয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

