শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন গ্যারি কারস্টেন। লঙ্কানদের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তানের কোচ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে কথা বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার। ম্যান ইন গ্রিনদের দায়িত্ব নিলেও ছয় মাসের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারেননি তিনি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নিলেও অক্টোবরেই পদত্যাগ করেন তিনি। সেই সময়েই তিনি দেখেছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাইরে থেকে বেশি হস্তক্ষেপ করা হয়। এই বিষয়কে ভীতিপ্রদ বলেও অভহিত করেন তিনি।
মাত্র পাঁচ মাসের সেই সময়, যেখানে ছিল মোটে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। কারস্টেন এটিকে অভিজ্ঞতা হিসেবে খুব বড় কিছু নয় বলেই অভিহিত করেছেন। তবে এই সময়েই ক্রিকেটারদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছে বলেই জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার বিরোধ চরম মাত্রায় পৌঁছে যখন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সাদা বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক করা হয়। এক সাক্ষাৎকারে কারস্টেন বলেন, তার কাজের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল এই ‘হস্তক্ষেপ’। তার ভাষায়, “আমি সারা বিশ্বে কাজ করেছি, এটি আমার চতুর্থ আন্তর্জাতিক চাকরি। একেক দেশে হস্তক্ষেপের মাত্রা একেক রকম হয়। তবে পাকিস্তানে এই হস্তক্ষেপের বিষয়টি বেশ ভীতিপ্রদ এবং জটিল ছিল। কোচ হিসেবে যখন আপনার কোনো প্রভাবই থাকবে না, তখন সেই কাজ করার মানে কী? আমি ২০ বছর বয়স থেকে ক্রিকেটে আছি, এখন আমার বয়স ৫৮। দীর্ঘ ৩৮ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি কোথাও গিয়ে যদি কিছু যোগ করতে না পারি, তবে সেখানে থাকার কোনো সার্থকতা দেখি না।”
তিনি যোগ করেন, “আমি এই কাজ করি খেলোয়াড়দের উন্নতি করতে সাহায্য করার জন্য। যদি সেই সুযোগটাই না থাকে, তাহলে এর কোনো মূল্য থাকে না।” প্রায় চার দশকের ক্রিকেট অভিজ্ঞতা থাকা কারস্টেনের কাছে এই প্রভাবহীনতা ছিল হতাশাজনকই নয়, তার কোচিং দর্শনের বিরুদ্ধেও।
তবে মাঠের বাইরে যত সমস্যাই থাকুক, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দৃঢ়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের জরিমানা করার খবরে ক্ষোভ নয়, বরং দুঃখই প্রকাশ করেন তিনি। “আমি অবাক হইনি, কিন্তু দুঃখ পেয়েছি। খেলোয়াড়রা তাদের সর্বোচ্চটা দিচ্ছে। তাদের অনেকের সঙ্গেই আমার আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা দেশের জন্য ভালো করতে চায়, এমন কিছু দেখা কখনোই ভালো লাগে না,” বলেন কারস্টেন।
“ক্রিকেটাররা যেখানকারই হোক- ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত বা শ্রীলঙ্কা- তারা পেশাদার। আমরা একই ভাষায় কথা বলি, ক্রিকেটের ভাষায়। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে আমি সত্যিই আনন্দ পেয়েছি। তারা খেলাটার প্রতি নিবেদিত,” বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিজের অভিজ্ঞতাকে সহজভাবেই দেখছেন কারস্টেন, “সব মিলিয়ে পাঁচ মাস, ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ- অভিজ্ঞতা হিসেবে খুবই সংক্ষিপ্ত।”

