শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলকে জরিমানা করল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলকে জরিমানা করল ফিফা

বৈষম্যবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ফিফা ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা)। 

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শৃঙ্খলা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ক্লাব বেইতার জেরুজালেম এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে আইএফএ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আইএফএর বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে অভিযোগ জানায়। এরপর তদন্ত শুরু করে ফিফা।


বিজ্ঞাপন


তবে আইএফএকে সাময়িক নিষিদ্ধ করার যে দাবি জানিয়েছিল পিএফএ, সেটি গ্রহণ করেনি ফিফা। তবুও তদন্তে উঠে এসেছে, সংস্থাটি ফিফার নীতিমালার মৌলিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ফুটবলে একাধিক বর্ণবাদী ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বেইতার জেরুজালেমের ক্ষেত্রে দেওয়া শাস্তিকে “অপর্যাপ্ত” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিফার প্রতিবেদনে বলা হয়, “সমর্থকদের মধ্যে ধারাবাহিক ও সুপ্রমাণিত বর্ণবাদী আচরণ দেখা গেছে।” আরও বলা হয়, “'ফরএভার পিউর' ধরনের স্লোগান এবং আরব খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ‘সন্ত্রাসী’ বলে চিৎকার- এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ, যা খেলাধুলার মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

শৃঙ্খলা কমিটি আরও উল্লেখ করেছে, এই ক্লাবটি কেবল বড় সমস্যার একটি ছোট উদাহরণ, সামগ্রিকভাবে আইএফএর ব্যর্থতার প্রতিফলন। জরিমানার পাশাপাশি আইএফএকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফিফা। একই সঙ্গে তাদের পরবর্তী তিনটি হোম ম্যাচে “Football Unites the World, No to Discrimination” বার্তা সম্বলিত দৃশ্যমান ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে বৈষম্য রোধ ও পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি পেশাদার লিগের সিইও এবং মাক্কাবি নেতানিয়া–এর পক্ষ থেকে দেওয়া রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তার বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি আইএফএ।


বিজ্ঞাপন


ফিফা উল্লেখ করেছে, আইএফএ কখনো প্রকাশ্যে বর্ণবাদের নিন্দা জানায়নি, কোনো বৈষম্যবিরোধী প্রচারণা চালায়নি এবং আরব বা ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির দিকেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

অন্যদিকে পৃথক এক তদন্তে পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ফিফা। ফিফার গভর্ন্যান্স, অডিট ও কমপ্লায়েন্স কমিটি জানায়, “পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো জটিল ও অনির্ধারিত। তাই এই বিষয়ে ফিফার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।”

২০২৪ সালে জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, অন্তত আটটি ক্লাব ‘ইসরায়েলি বসতি’ এলাকায় খেলে এবং ফিফাকে মানবাধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তাদের ভাষায়, “খেলাধুলার স্বায়ত্তশাসন কখনোই মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ হতে পারে না।” বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর