সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

তৃতীয় ওয়ানডেতে নাটকীয় এক ঘটনার পর ম্যাচ রেফারির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান দল। শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের নেওয়া একটি রিভিউকে ঘিরেই এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পাকিস্তান দলের অভিযোগ, মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এমন সময় বাংলাদেশকে এলবিডব্লিউ রিভিউ নেওয়ার সুযোগ দেন, যখন বলটির রিপ্লে ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হয়ে গেছে। তাদের দাবি, বড় পর্দায় রিপ্লে দেখার পরই বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ডিআরএস ব্যবহারের স্বাভাবিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


বিজ্ঞাপন


ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে। তখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ দুই বলে দরকার ছিল ১২ রান। রিশাদ হোসেনের একটি বল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে যায় এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি সেটিতে ঠিকভাবে ব্যাট লাগাতে পারেননি। ফলে আম্পায়ার সেটিকে ওয়াইড ঘোষণা করেন।

এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এলবিডব্লিউয়ের জন্য রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। খালি চোখে মনে হচ্ছিল বলটি আফ্রিদির শরীর বা পায়ে লাগেনি। তবে পাকিস্তানের অভিযোগ, বলটির রিপ্লে বড় পর্দায় দেখানোর পরই বাংলাদেশ বুঝতে পারে যে বলটি হয়তো ব্যাট স্পর্শ করেছে।

ডিআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত রিপ্লে দেখানোর আগে দলগুলোকে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যাতে দৃশ্য দেখে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ না থাকে। পাকিস্তান আরও দাবি করেছে, রিভিউ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমাও হয়তো অতিক্রম করা হয়েছিল। তবে সম্প্রচারের সময় কোনো টাইমার দেখানো না হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরে ডিআরএসের হক-আই বিশ্লেষণে দেখা যায়, বলটি আফ্রিদির ব্যাটের নিচের অংশে সামান্য স্পর্শ করেছিল। ফলে আম্পায়ারের দেওয়া ওয়াইড সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। যদিও এলবিডব্লিউর আবেদনটি টিকেনি এবং বাংলাদেশ তাদের রিভিউ হারায়, তবুও ওয়াইড বাতিল হওয়ায় সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ বলে ১২ রান।


বিজ্ঞাপন


শেষ বলে রিশাদ হোসেনের বল মোকাবিলা করতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান শাহীন শাহ আফ্রিদি। আউট হওয়ার পর হতাশায় স্টাম্পের ওপর ব্যাট ছুড়ে মারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয়ে ম্যাচ ও সিরিজ দুটিই নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

এ ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ রেফারির কাছে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ চেয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে তাদের প্রত্যাশা, কোনো ধরনের নিয়মভঙ্গ হয়ে থাকলে সেটি প্রকাশ্যে স্বীকার করা হবে।

উল্লেখ্য, সিরিজের আগের ম্যাচেও একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান দলের অসন্তোষ দেখা যায়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আগা বল করার সময় ক্রিজের বাইরে থাকায় রানআউট হন। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি ব্যাট ও গ্লাভস ছুড়ে ফেলায় একটি ডিমেরিট পয়েন্ট এবং ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানার শাস্তি পান। একই ঘটনায় মেহেদী হাসান মিরাজকেও ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

এসটি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর