বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের নারী ফুটবলারদের কী অস্ট্রেলিয়ায় জিম্মি করে রাখা হয়েছে? 

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের নারী ফুটবলারদের কী অস্ট্রেলিয়ায় জিম্মি করে রাখা হয়েছে? 

এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ইরানের নারী ফুটবল দল। একদিকে যখন ইরানে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তখন অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের লড়াইয়ে ছিলেন ইরান নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। কিন্তু সেখানেই আবার জটিল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাদের নিয়ে। ইরান দাবি করছে তাদের ফুটবলারদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকার দাবি করছে, ফুটবলারদের মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গণে আলোচনা তুঙ্গে। 

এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় ইরানের ফুটবলারদের চুপ থাকাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে দলটির কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ইরানের নারী দলের পাঁচজন খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অস্ট্রেলিয়াতেই থাকতে পারেন। ওই পাঁচজন হলেন অধিনায়ক জাহরা গানবারি, মিডফিল্ডার ফাতেমাহ পাসান্দিদা, জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামুদি এবং ডিফেন্ডার আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের মতে, ইরানে ফিরে গেলে এই খেলোয়াড়দের শাস্তির মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় তারা নীরব দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ভাষ্যকার এই ঘটনাকে “চরম অসম্মান” বলে আখ্যা দেন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বৈশ্বিক ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রোও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

Screenshot_2026-03-11_144342

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, যারা সহায়তা চাইবেন তাদের সবাইকে আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অ্যালবানিজের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে দাবি করেন এবং বলেন, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবারের নিরাপত্তার আশঙ্কায় দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


পরে জানা যায়, আরও একজন খেলোয়াড় ও দলের এক সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসা পেয়েছেন। তবে দলের বাকি সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় সিডনি বিমানবন্দরের বাইরে ইরানবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা খেলোয়াড়দের দেশে ফিরে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। গোল্ড কোস্টের হোটেল থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় পুলিশের নিরাপত্তায় দলটি যাত্রা করে।

2026-03-08T235647Z_282058529_RC280KA1WNGP_RTRMADP_3_IRAN-CRISIS-SOCCER-ASIANCUP-1773062356

এদিকে আশ্রয় চাওয়া এক খেলোয়াড় পরে সিদ্ধান্ত বদলান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক পার্লামেন্টে জানান, সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার পর ওই খেলোয়াড় ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে দূতাবাস জানতে পারে খেলোয়াড়রা কোথায় অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তার কারণে এরপর বাকি খেলোয়াড়দের অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা জানান, সিডনি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় প্রতিটি খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে ডেকে দোভাষীর মাধ্যমে আশ্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তখন কোনো ইরানি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

Screenshot_2026-03-11_144311

অন্যদিকে ইরান সরকার খেলোয়াড়দের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরানের নারী ফুটবল দলকে বলছি- চিন্তার কিছু নেই, ইরান উন্মুক্ত বাহুতে তোমাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।”

শুধু তাই নয়, মানবিক ভিসার দোহাই দিয়ে ইরানের ফুটবলারদের মূলত জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাঘাই। তিনি লিখেন, “মিনাব শহরে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলায় ১৬৫-এর বেশি নিরীহ ইরানি স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে তারা। এখন আবার ‘উদ্ধার’ করার নামে আমাদের খেলোয়াড়দের জিম্মি করতে চায়?”, এমন মন্তব্য করেন বাঘাই।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, দেশে ফিরলে খেলোয়াড়রা হয়রানি বা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। কিছু শরণার্থী অধিকারকর্মীর দাবি, খেলোয়াড়দের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হতে পারে, এমনকি তাদের সম্পত্তি জব্দ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

এই ঘটনার পেছনে বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। এশিয়ান কাপ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটিতে উত্তেজনা তীব্র। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়েছিল ইরানের নারী দল। ফলে একটি ক্রীড়া আসরকে ঘিরে শুরু হওয়া ঘটনা এখন ক্রীড়া, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর