লম্বা অপেক্ষার পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ফিরছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশা পিছনে ফেলে এখন সব চোখ ওয়ানডে ক্রিকেটের দিকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন যাত্রা, যা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এই সিরিজের ম্যাচগুলো। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও ক্রিকেটাররা বিপিএল, অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ এবং বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলেছেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উত্তেজনা ও চাপের অভাব ছিল স্পষ্ট। এই সিরিজ দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ নয়ে থাকাই ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করবে। তাই আসন্ন প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য ‘ডু অর ডাই’ সমান। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, এ বছর বেশ কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে, এবং এসব ম্যাচের ফলাফলই দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। র্যাঙ্কিং ধরে রাখা এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
পাকিস্তানও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নতুন করে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে দল গড়ার চেষ্টা করছে। তাদের স্কোয়াডে রয়েছে ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটার, যাদের মধ্যে চারজনই টপ অর্ডার ব্যাটার। বিশেষ করে সাহিবজাদা ফারহানের দিকে সবার নজর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পর এবার ওয়ানডেতে অভিষেকের অপেক্ষায় তিনি। অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও এই নতুন মুখগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ দলে বড় চমক না থাকলেও লিটন দাস ও আফিফ হোসেন দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন। লিটনের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করেনি, কিন্তু স্পিন ভালো খেলার ক্ষমতা এবং মিডল অর্ডারে খেললে চাপ কমার সম্ভাবনায় কোচ ফিল সিমন্স তাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উইকেটকিপিংয়ের পর বিশ্রামও পাবেন তিনি। এখন চ্যালেঞ্জ পুরোনো ফর্মে ফেরা।
পাকিস্তানের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তার অধীনে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান, যদিও বিশ্বকাপে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না।
বিজ্ঞাপন
মিরপুরের উইকেট নিয়ে সবসময়ই আলোচনা হয়। আগের সিরিজে স্পিনারদের দাপট ছিল প্রবল, অনেক ওভারই স্পিনে শেষ হয়েছে। তবে এবার দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, উইকেট আগের চেয়ে কিছুটা ভালো ও ব্যাটিংবান্ধব। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল। সেই স্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা।
এসটি

