আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে জমজমাট ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। একই সঙ্গে এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে দলটি।
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত। দলের পক্ষে দারুণ ইনিংস খেলেন সঞ্জু স্যামসন, ইষান কিশান ও অভিষেক শর্মা। স্যামসন ৪৬ বলে ৮৯ রান করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন। দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে অভিষেক শর্মা করেন ২১ বলে ৫২ রান, আর ইষান কিশান ২৫ বলে করেন ৫৪ রান।
বিজ্ঞাপন
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কিউই ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। ফলে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।
এই জয়ের মাধ্যমে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েছে ভারত। এর আগে তারা ২০০৭ ও ২০২৪ সালে এই ট্রফি জিতেছিল।
এছাড়া টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের নতুন নজিরও স্থাপন করেছে দলটি। ২০২৪ সালের শিরোপা জয়ের পর ২০২৬ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা ধরে রাখার সাফল্য দেখাল ভারত। আরেকটি বিশেষ অর্জন হলো, নিজেদের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দল হয়ে উঠেছে ভারত।
বোলিং বিভাগেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় ভারত। জাসপ্রিত বুমরাহ চার উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তাকে কার্যকর সহায়তা করেন অক্ষর প্যাটেল, যিনি তিনটি উইকেট শিকার করেন।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, এই সাফল্য দলের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল। একই সঙ্গে তিনি জাসপ্রিত বুমরাহকে “জাতীয় সম্পদ” বলেও উল্লেখ করেন।
সূর্যকুমার বলেন, “এটা আমাদের জন্য সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত। অনেকদিন ধরে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলছি। সেই প্রচেষ্টারই ফল আজকের এই শিরোপা।”

