আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে মোহাম্মদ আমির বিদায় জানিয়েছেন আরও আগেই। তবে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়েই আলোচনায় তিনি। ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মাকে স্লগার ডেকে, সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। আইসিসির এ টুর্নামেন্টের ফাইনালের আগেও আরও একবার আলোচনায় তিনি। পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার এবার ভারতের বিপক্ষে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি বলেছেন, আহমেদাবাদে রবিবার অনুষ্ঠিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত জিতবে না; বরং নিউ জিল্যান্ডই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
এর আগেও আমির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ভারত সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না এবং পরে বলেছিলেন তারা ফাইনালেও পৌঁছাতে পারবে না। কিন্তু তার সেই দুই ভবিষ্যদ্বাণীই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভারত সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় এবং পরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
বিজ্ঞাপন
আমির মনে করেন, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের বাড়তি শক্তি আছে এবং সেই কারণে কিউইরা ভারতকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, আহমেদাবাদের পিচে গতি ও বাউন্স থাকবে, যা ম্যাচটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। তার ভাষায়, “আমি মনে করি না এটি মুম্বাইয়ের পিচের মতো হবে। আহমেদাবাদের উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকবে। নিউ জিল্যান্ড দীর্ঘ সময় ধরে ভারতকে চাপে রাখবে। যে কেউ জিততে পারে, তবে ফাইনালে পৌঁছানোই বড় ব্যাপার। সামগ্রিকভাবে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে আমার মতে নিউ জিল্যান্ড এগিয়ে।”
আমির আরও বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতের ভাগ্য ভালো ছিল কারণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফেলে দেওয়া হয়েছিল। হ্যারি ব্রুক সঞ্জু স্যামসনের ক্যাচ ফেলেন এবং টম বেন্টন হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যাচ মিস করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। তিনি বলেন, “শেষ ম্যাচে ফেলা ক্যাচই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। হ্যারি ব্রুক সঞ্জু স্যামসনের ক্যাচ ফেলেছিলেন এবং পান্ডিয়ার ক্যাচও মিস হয়েছিল। এগুলো ম্যাচ জেতানো ক্যাচ হতে পারত। যদি নিউ জিল্যান্ড ইংল্যান্ডের মতো ভুল না করে, তাহলে তারা ভারতকে হারাতে পারে।”
ভারত গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতেছিল, তবে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারে। এরপর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং পরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায়। এখন সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত লক্ষ্য রাখছে ইতিহাস গড়ার দিকে। তারা জিততে পারলে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে এবং নিজেদের মাটিতে এই শিরোপা জেতা প্রথম দল হবে।

