টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতেই কঠিন প্রশ্নগুলোর জবাব দিয়েছেন। আধুনিক অনেক অধিনায়কের মতো তিনি খুব বেশি আবেগপ্রবণ বা নাটকীয় নন, তবে নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন।
ফাইনালের আগে আলোচনায় উঠে আসে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের বিষয়টিও, যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক ক্রিকেটার নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না। এই প্রসঙ্গে স্যান্টনার বলেন, “এই পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন, কারণ এটা এখন সব জায়গাতেই আলোচনায় আছে। বিষয়টা সত্যিই কঠিন। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনেকেই এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছেন।”
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে দুবাইয়ের আকাশপথ বন্ধ থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড দলের অনেক সদস্য এখনও যথাক্রমে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে আটকে আছেন। বিষয়টি যে খেলোয়াড়দের জন্য উদ্বেগের কারণ, সেটিও স্বীকার করেছেন স্যান্টনার। তিনি বলেন, মানুষের যখন ঘরে ফিরতে সমস্যা হচ্ছে, তখন শুধু খেলায় মনোযোগ দেওয়া সহজ নয়। তবে ফাইনাল ম্যাচ সামনে থাকায় আপাতত দলের মূল লক্ষ্য সেই ম্যাচের প্রস্তুতি।
“অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারছে না। তাই এটা মাথা থেকে সরিয়ে রাখা কঠিন। কিন্তু আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকাল মাঠে কীভাবে খেলব, বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে।”
গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ড পাঁচটি আইসিসি ফাইনালে খেলেছে। তবুও বেশিরভাগ সময়ই তারা রানার্সআপ হয়ে থেমেছে। এবার সেই ইতিহাস বদলাতে চায় কিউইরা। স্যান্টনার বলেন, “আমরা সব সময় দল হিসেবে নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। সবাই জানে আমরা হয়তো ফেভারিট নই, কিন্তু সেটা আমাদের সমস্যা নয়। সত্যি বলতে, একবার ট্রফি জিততে হলে কয়েকটা হৃদয় ভাঙাতে আমার আপত্তি নেই।”
তিনি এটাও স্বীকার করেন যে ফাইনাল ম্যাচকে “সাধারণ আরেকটি ম্যাচ” বলা সহজ হলেও বাস্তবে বিষয়টি আলাদা। “অনেকে বলে এটা শুধু আরেকটা ম্যাচ, কিন্তু সবাই জানে আসলে তা নয়। তবে প্রস্তুতি ও মানসিকতা একই রাখতে হবে- যেভাবে অন্য ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নিই।” টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে বলে মনে করেন স্যান্টনার। তাই তিনি চান তার দল সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাক।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, “টি–টোয়েন্টিতে সব সময় কয়েকটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। যদি সেই সময় প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায় বা সুযোগ নেওয়া যায়, সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।” নিউজিল্যান্ডকে সাধারণত খুব কঠোর বা নির্মম দল হিসেবে দেখা হয় না। কিন্তু ফাইনালের মতো ম্যাচে প্রয়োজনে কঠিন মানসিকতা দেখাতেও প্রস্তুত স্যান্টনারের দল। তিনি বলেন, “খেলার ধরনে ধারাবাহিকতা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু মুহূর্তে একটু বেশি কঠোর হতে পারলে ভালো। তবে এজন্য নতুন করে কিছু উদ্ভাবন করার দরকার নেই।”

