শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

‘এটা একটা সুপারপাওয়ার, দীপ ঘষলেই বেরিয়ে আসে বুমরাহ’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ এএম

শেয়ার করুন:

‘দলে বুমরাহ থাকা আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো’

ভারতের পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। মুম্বাইয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রোমাঞ্চকর জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর বুমরাহকে তিনি বলেছেন, “এমন এক সুপারপাওয়ার, যাকে পাওয়ার স্বপ্ন দেখবে যেকোনো অধিনায়ক।”

ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ অনুষ্ঠানে ডু প্লেসিস বলেন, “ভারতীয় দল হয়তো বুঝতেই পারে না তারা কতটা ভাগ্যবান যে তাদের দলে বুমরাহ আছে। বারবার প্রমাণ হয়েছে- ফরম্যাট যাই হোক, তাকে বল তুলে দিলেই সে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। এটা এমন এক সুপারপাওয়ার, যেটা প্রতিটি অধিনায়কই চাইবে; যেন একটি জিনির মতো- দীপ ঘষলেই বেরিয়ে আসে বুমরাহ।”


বিজ্ঞাপন


৪৯৯ রানের এই হাই–স্কোরিং ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন বুমরাহই। চার ওভারে একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মাত্র ৮.২৫ ইকোনমিতে রান দেন তিনি, যেখানে ম্যাচের সামগ্রিক রানরেট ছিল ওভারপ্রতি ১২–এরও বেশি। ইংল্যান্ডের ইনিংসে তিনি ৫ম, ১১তম, ১৬তম ও ১৮তম ওভার বোলিং করেন এবং বেশিরভাগ ডেলিভারিতেই ছিলেন নিখুঁত।

ইয়র্কার ঠিকমতো না হলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা তাকে আক্রমণ করার সাহস দেখাতে পারেননি। প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকলেও তারা অনেক সময় শুধু বুমরাহকে সামলে খেলতেই বাধ্য হয়েছেন। ডু প্লেসিসের মতে, বুমরাহর সাফল্যের পেছনে শুধু দক্ষতা নয়, তার বোলিং অ্যাকশনও বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, “১৮তম ওভারে সবাই জানে সে ফুল লেংথ, ইয়র্কার বা স্লোয়ার বল করবে। কিন্তু ওই ওভারে সে দুটি লো ফুলটস করে এবং দুটিতেই স্যাম কারান দেরিতে বল খেলেছে। অন্য কোনো বোলার এমন লেংথ মিস করলে ছক্কা খেয়ে বসত। শিভম দুবে শেষ ওভারে এমন বল করেছিল, আর সেটি ছক্কা হয়ে যায়।”

ডু প্লেসিস আরও বলেন, “বুমরাহর অ্যাকশন এতটাই আলাদা যে বল কখন হাত থেকে বের হয় তা বোঝা কঠিন। এটা দক্ষতা তো বটেই, পাশাপাশি তার অ্যাকশনের রহস্যও বড় বিষয়- এক সময় লাসিথ মালিঙ্গার মতোই। এই পার্থক্যের কারণেই তাকে ঠিকমতো লাইন আপ করা খুব কঠিন।”


বিজ্ঞাপন


ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি, বিশেষ করে বুমরাহকে ব্যবহার করার কৌশল নিয়ে। শেষ তিন ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান, তখন জ্যাকব বেথেল ভালো ছন্দে ছিলেন। সেই সময় ১৮তম ওভার করতে এসে ধারাবাহিক ইয়র্কার করে মাত্র ৬ রান দেন বুমরাহ, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

ডু প্লেসিস বলেন, “পুরো ইনিংসেই সে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার আসল শক্তি শেষের দিকে, যখন ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয়। আজ তাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা ছিল দারুণ অধিনায়কত্ব। ঠিক সময়ে তাকে আক্রমণে আনা হয়েছে, রানরেট কমানো হয়েছে এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে- এটা ছিল একেবারে নিখুঁত সিদ্ধান্ত।”

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর