টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের মূল্য সব সময়ই আলাদা। ব্যাট হাতে রান করা এবং বল হাতে উইকেট নেওয়া দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারা ক্রিকেটারই প্রকৃত অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হন। তাই আইসিসির রেটিং পদ্ধতিতেও অলরাউন্ডারদের মূল্যায়ন করা হয় ব্যাটিং ও বোলিং। এই দুই পারফরম্যান্স একত্রে বিবেচনা করে।
আইসিসি ক্রিকেটারদের ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স আলাদা করে ১ থেকে ১০০০ পয়েন্টের মধ্যে রেটিং দেয়। এরপর অলরাউন্ডারদের রেটিং নির্ধারণ করা হয় ব্যাটিং ও বোলিং রেটিং গুণ করে ১০০০ দিয়ে ভাগ করার মাধ্যমে। ফলে একজন ক্রিকেটারকে উচ্চ অলরাউন্ডার রেটিং পেতে হলে একই সময়ে দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হয়, যা বাস্তবে খুব কঠিন।
বিজ্ঞাপন
এই কারণেই পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ক্রিকেটারই ৫০০-এর বেশি অলরাউন্ডার রেটিং অর্জন করতে পেরেছেন। ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সর্বোচ্চ অলরাউন্ডার রেটিং পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের বেশ কিছু কিংবদন্তি নাম।
তালিকার দশ নম্বরে আছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৩ বলে ৭৩ রান করার পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ৩২৮ রেটিংয়ে পৌঁছান। হারলেও সেই ম্যাচে ম্যাচসেরা হন তিনি। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০০ রান ও ১০০ উইকেট করার কৃতিত্বও রয়েছে তার।
নয় নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড হাসি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর পার্ট-টাইম বোলিংয়ের জন্য পরিচিত এই অলরাউন্ডার ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজের সর্বোচ্চ রেটিং ৩৩৭ স্পর্শ করেন।
আট নম্বরে আছেন আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রান করে তিনি ৩৬১ রেটিংয়ে পৌঁছান। দীর্ঘ সময় ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অন্যতম নির্ভরতার নাম তিনি।
বিজ্ঞাপন
সাত নম্বরে ভারতের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিং। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাজকোটে মাত্র ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করার পর তার অলরাউন্ডার রেটিং দাঁড়ায় ৩৬৩।
ছয় নম্বরে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ওপেনার সনৎ জয়সুরিয়া। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য বিখ্যাত এই ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩১ ম্যাচ খেলেও ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অবদান রেখে ৩৬৬ রেটিং অর্জন করেছিলেন।
পাঁচ নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুটি দুর্দান্ত ইনিংস, ১৪৫ অপরাজিত ও ৬৬; খেলার পর তার অলরাউন্ডার রেটিং উঠে যায় ৩৭৫-এ।
চার নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দলের অন্যতম ভরসা এই অলরাউন্ডার ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৪২০ রেটিং অর্জন করেন।
তিন নম্বরে আছেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও লেগ স্পিনের জন্য পরিচিত এই অলরাউন্ডার ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং দাঁড়ায় ৪৩৭।
দুই নম্বরে রয়েছেন পাকিস্তানের আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। ২০১৩ সালে টানা কয়েকটি ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে তিনি ৪৫২ রেটিং অর্জন করেন।
তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসেবে ৫০০-এর বেশি রেটিং পেয়েছেন। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭০ রান ও ২ উইকেট নিয়ে তিনি ৫৬৬ রেটিংয়ে পৌঁছান। যা এখনো এই ফরম্যাটে অলরাউন্ডারদের সর্বোচ্চ রেটিং।
এসটি

