শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ের পর গম্ভীরের যে কৌশল আলোচনায়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ের পর গম্ভীরের যে কৌশল আলোচনায়

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বকে কয়েক মাস আগেই ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। সেই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বড় বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে গম্ভীর দেখিয়ে দিলেন কেন ছোট ফরম্যাটে নমনীয় ব্যাটিং লাইনআপ এতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর থেকেই গম্ভীর চমক দিতে শুরু করেন। ম্যাচের পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও স্বীকার করেন, তিনি আগে ব্যাট করতেই চেয়েছিলেন- আর ব্যাট হাতে দলের পারফরম্যান্স সেই সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করেছে।


বিজ্ঞাপন


ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে অনেকেই কৌশলগত দিক থেকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেন। কিন্তু এই ম্যাচে কৌশলে এক ধাপ এগিয়েই ছিলেন গম্ভীর। তার পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ১০ম ওভারে লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ইশান কিশানকে আউট করার পর প্রত্যাশিতভাবে সূর্যকুমার যাদবকে না পাঠিয়ে চার নম্বরে নামানো হয় বাঁহাতি শিভম দুবেকে। মূল লক্ষ্য ছিল রশিদের প্রভাব কমানো, কারণ লেগ স্পিনের বিপক্ষে দুবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে পরিচিত।

সঞ্জু স্যামসন রশিদের বিপক্ষে সতর্কভাবে খেললেও দুবে ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৮ বলে ২২ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা। স্যামসন আউট হওয়ার পরও ভারতের ব্যাটিংয়ে বাঁ–ডান হাতি জুটি বজায় রাখতে দুবের সঙ্গী হিসেবে নামানো হয় হার্দিক পান্ডিয়াকে। দুবে–পান্ডিয়ার এই আক্রমণে চাপে পড়ে ব্রুক পরিকল্পনার আগেই জফরা আর্চারকে আক্রমণে আনতে বাধ্য হন। পুরো ইনিংস জুড়েই ভারত এমনভাবে ব্যাটিং সাজিয়েছে যাতে কখনো বাঁ–ডান হাতি জুটি থাকে, আবার কখনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই ব্যাটার ক্রিজে আসে।

যেমন তিলক ভার্মাকে শেষ দিকের ওভারগুলোর জন্য রেখে দেওয়া হয়, কারণ আর্চারের মতো গতিময় বোলারের বিপক্ষে তার ব্যাটিং দক্ষতা বেশি কার্যকর। ভারতের এই ধারাবাহিক কৌশলগত পরিবর্তনে ইংল্যান্ডের বোলাররা ঠিকমতো ছন্দই খুঁজে পাননি।

Screenshot_2026-03-06_154519


বিজ্ঞাপন


ভারতের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব শুধু ব্যাটিংয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। জ্যাকব বেথেল ইংল্যান্ডকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও ভারতের বোলিং পরিকল্পনাও ছিল প্রশংসনীয়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের পিচ আলোয় সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হয়ে ওঠে, এটা মাথায় রেখেই শুরুতেই উইকেট নেওয়ার পরিকল্পনা করে ভারত।

হার্দিক পান্ডিয়াকে দ্রুত আক্রমণে এনে প্রথম বলেই ফিল সল্টকে আউট করা হয়। আবার ব্রুককে লক্ষ্য করে পাওয়ারপ্লেতে আনা হয় জাসপ্রিত বুমরাহকে। গতি কমিয়ে দেওয়া এক বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারিতে ব্রুক ভুল শট খেললে অ্যাক্সার প্যাটেল পিছনে দৌড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন। শেষ ১০ ওভারের জন্য বুমরাহর তিন ওভার জমিয়ে রাখা ছিল ভারতের বড় কৌশল। বিশেষ করে ১৬তম ও ১৮তম ওভারে তার বোলিং ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ওই দুই ওভারে মাত্র ১৪ রান দেন তিনি, যখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ওভারপ্রতি প্রায় ১৪ রান।

ভারতের এই পরিকল্পিত কৌশলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে দেয়।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর