মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

দক্ষিণ আফ্রিকার 'চোকার্স' অপবাদ মুছে ফেলার মিশন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

দক্ষিণ আফ্রিকার 'চোকার্স' অপবাদ মুছে ফেলার মিশন

বিশ্বক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম উঠলেই সঙ্গে জুড়ে যায় একটি শব্দ 'চোকার্স'। নকআউট মঞ্চে হোঁচট খাওয়ার ইতিহাস যেন তাদের কপালে স্থায়ী কালির দাগ হয়ে লেগে আছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন গল্প। ধারাবাহিকতা, দাপট আর জয়ের অভ্যাস; সবই আছে। নেই শুধু শেষ ধাপের ট্রফিটা।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা মোট আটবার সেমিফাইনালে উঠেছে। কিন্তু ফাইনাল খেলতে পেরেছে মাত্র একবার। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এর আগে ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫ (ওয়ানডে) এবং ২০০৯, ২০১৪ (টি-টোয়েন্টি) প্রতিবারই থেমে গেছে শেষ চারে।


বিজ্ঞাপন


সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়তো ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেই টাই ম্যাচ, কিংবা ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শেষ ওভারের নাটক। সেইসব স্মৃতি থেকেই জন্ম ‘চোকার্স’ তকমার।

২০২৪ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল, সব মিলিয়ে টানা জয়ে ফাইনালে পৌঁছায় তারা। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ভাগ্য সহায় হয়নি।

শেষদিকে ডেভিড মিলারের ব্যাটে ম্যাচ হেলে পড়ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। কিন্তু বাউন্ডারির কাছে সূর্যকুমার যাদবের অসাধারণ ক্যাচ বদলে দেয় ইতিহাসের গতি। দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র হার, আর সেটিই ফাইনাল। প্রশ্ন উঠতেই পারে, একটি ক্যাচ তালুবন্দী হলেই কি ‘চোকার্স’? নাকি এটা নিছক ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা?

২০২৪ থেকে ২০২৬ দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছে ১৬টি ম্যাচ। হার মাত্র একটি, সেটিও ফাইনালে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ মঞ্চে তারা প্রায় অপরাজেয় ধারায় ছিল। এমন ধারাবাহিকতা খুব কম দলই দেখাতে পারে। তবু একটি ম্যাচের ফলই যেন তাদের পরিচয়ের মাপকাঠি হয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


টেস্ট ক্রিকেটে টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার একটি বৈশ্বিক শিরোপা তাদের মানসিক জড়তা অনেকটাই ভেঙেছে। এবার টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বে এইডেন মার্করাম। তাঁর অধীনে দল খেলছে সাহসী ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ব্যাটিং গভীরতা, বোলিং বৈচিত্র্য এবং ফিল্ডিং তীক্ষ্ণতা সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এক ইউনিট।

এদিকে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবারই জয় প্রোটিয়াদের। কখনও ১ রানে, কখনও ২ রানে রোমাঞ্চে ভরা সেসব লড়াই। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই দুই দলের কখনও দেখা হয়নি। ফলে এবারকার লড়াই শুধু পরিসংখ্যানের নয়, মানসিকতারও পরীক্ষা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে নকআউট পর্বে ব্যর্থতার নজির আছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু একই সঙ্গে আছে অসাধারণ ধারাবাহিকতা, প্রতিবারই শেষ চারে ওঠার সক্ষমতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল হতে পারে এক মানসিক মুক্তির মঞ্চ। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে, তবে ‘চোকার্স’ তকমা আরও খানিকটা ফিকে হবে। আর যদি হারে, বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেবে।

এসটি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর