ক্রিকেটের মহারণে কখনও শুধু জয়ের হিসাবই যথেষ্ট নয়, ছন্দও হতে হয় নিখুঁত। অনেক বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত, কিন্তু প্রশ্ন একটাই- এই দল কি সত্যিই ফাইনালের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত? পারফরম্যান্সের ওঠানামা আর অনিশ্চয়তার ছায়া তাদের সামনে বড় পরীক্ষাই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ব্যাটিং বিভাগ। সাঞ্জু স্যামসন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঝলমলে ইনিংস খেললেও দলগতভাবে ব্যাটিং ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রান করে আলোচনায় এলেও এরপর আর ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
ওপেনিং জুটি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। অভিষেক শর্মা ছয় ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮০ রান। যা একজন ওপেনারের জন্য মোটেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুর ধাক্কা সামলাতে না পারায় মাঝের সারির ব্যাটারদের ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে। বড় ম্যাচে নামার আগে এই সমস্যার সমাধান জরুরি।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ভারতের আরেক বড় দুর্বলতা। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে পুরো ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়েছিল। স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের অস্বস্তি স্পষ্ট, রানের গতি ধরে রাখা তো দূরের কথা, উইকেট টিকিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিপক্ষ স্পিনাররা মাঝের ওভারে চাপ তৈরি করলেই ভারত পথ হারাচ্ছে।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং লাইনআপও আশানুরূপ নয়। প্রতিপক্ষ আগ্রাসী হয়ে উঠলেই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে আক্রমণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। প্রয়োজনের সময় লাইন-লেন্থ ধরে রাখতে না পারায় দলকে গুনতে হচ্ছে বড় মূল্য।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে। ভারতের বোলাররা যদি আগের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারে, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেমিফাইনালের আগে নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়াই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য। ব্যাটিংয়ে স্থিরতা, স্পিন মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস এবং বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ, এই তিন জায়গায় উন্নতি না হলে ফাইনালের টিকিট পাওয়া কঠিন।

