স্কোরবোর্ড বলছে ৩-০। কিন্তু সব গল্প কি সংখ্যায় ধরা যায়? অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে ইরান। তবু এই ম্যাচে মাঠে নামাটাই যেন ছিল তাদের সবচেয়ে বড় জয়। কারণ, দেশের মাটিতে যখন ধোঁয়া আর আতঙ্ক, তখন স্বজনদের অনিশ্চয়তায় রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই করতে নামা, সেটাই সাহসের আরেক নাম। ম্যাচে হারলেও ইরানের মেয়েরা তো আসলে মাঠে নেমেই জিতে গেছে!
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের অবস্থান ৬৮তম, আর দক্ষিণ কোরিয়া ২১তম। শক্তিমত্তার পার্থক্য কাগজে-কলমেই স্পষ্ট। ম্যাচেও তার প্রতিফলন দেখা গেল। প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে চো ইউরির গোলে এগিয়ে যায় কোরিয়া। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিম হেইরি ব্যবধান বাড়ান। ৭৫ মিনিটে ইউ জিন–কোর আরেকটি গোল নিশ্চিত করে ৩-০ ব্যবধানে জয়।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু স্কোরলাইন যতটা একপেশে, লড়াইটা ততটা ছিল না। ইরানের মেয়েরা সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠেছে, কোরিয়ার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছে। গ্যালারি থেকেও ভেসে এসেছে করতালি শুধু ভালো ফুটবলের জন্য নয়, বরং অদম্য মানসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে।
দেশের ভেতরে চলছে টানটান উত্তেজনা ও সহিংসতা। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত ইরান। এমন বাস্তবতায় পরিবার-পরিজনকে রেখে দূর অস্ট্রেলিয়ায় এসে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের চোখে ছিল উদ্বেগের ছাপ, কিন্তু মাঠে তারা ছিলেন পেশাদার, দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটি বলের জন্য লড়েছেন।
২০২২ সালে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেয় ইরান। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পেয়েও কঠিন গ্রুপে পড়েছে তারা। ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন।
আগামী ৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইরান। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবারও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কিন্তু গোল্ড কোস্টের প্রথম ম্যাচই দেখিয়ে দিয়েছে, এই দলকে শুধু স্কোরলাইনে মাপা যাবে না।
বিজ্ঞাপন
৩-০ হার পরিসংখ্যানের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু এই ম্যাচের আসল গল্প সাহস, দায়বদ্ধতা আর মানসিক দৃঢ়তার। দেশের অস্থির সময়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়া, ইরানের মেয়েরা সেখানেই জিতে গেছে।
এসটি

