সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

স্যামসন ঝড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিতে ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

স্যামসন ঝড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিতে ভারত
অর্ধশতক করার পর সঞ্জু স্যামসন।

ম্যাচ শেষে ইডেনের ড্রেসিংরুমে ব্যাটে চুমু খাওয়া সঞ্জু স্যামসনের চোখে-মুখে তখন শুধু স্বস্তি। দীর্ঘদিনের চাপ, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার অবসান যেন ওই মুহূর্তেই ধরা পড়েছিল ভারতীয় এই ওপেনারের চেহারায়। তার আগেই ঠান্ডা মাথায় ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলিয়ে সঞ্জু স্যামসন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলে দেন ভারতকে। মাত্র তিন রানের জন্য শতরান না পেলেও তার কোনো আক্ষেপ ছিল না। তার মধ্যে দলের জয়টাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের যাওয়ার ম্যাচে ভারতের লক্ষ্য ছিল ১৯৬ রান। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫০ বলে ১২ চার আর ৪ ছক্কায় ৯৭ রান করে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এ জয়ে নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে তাদের সেমিফাইনালে খেলাও।


বিজ্ঞাপন


আক্ষরিক অর্থেই কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে যাওয়া ম্যাচে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান কম করেনি। ৪ উইকেটে ১৯৫। কিন্তু সঞ্জু স্যামসনের ইনিংসে সেই রানটাই কী সহজে পেরিয়ে গেল ভারত!

অভিষেক শর্মা ১১ বলে ১০, ঈষান কিষান ৬ বলে ১০ আর সূর্যকুমার যাদব যখন ১৬ বলে ১৮ রান করে আউট হলেন; কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল, হয়তো খুব সহজ হবে না ভারতের জয়। কিন্তু একের পর এক বাউন্ডারি মেরে স্যামসন সেই সামান্য শঙ্কাও উড়িয়ে দিলেন। রান তাড়ায় একবারই কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত।

১০ থেকে ১২ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি তারা। ওই ১৮ বল থেকে তারা করে মাত্র ১৩ রান। কিন্তু স্যামসন আর তিলক ভার্মা মিলে শামার জোসেফের করা ইনিংসের ১৩ নম্বর ওভারে ৪ চারে ১৭ রান নিয়ে আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ম্যাচ।

২৬ বলে তিলকের সঙ্গে ৪৬ রানের ওই জুটিই ম্যাচটাকে ভারতের একেবারে হাতে নিয়ে আসে।


বিজ্ঞাপন


ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ডটা এত দিন ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলি করেছিলেন ৮২ রান। কাল সেটাও ছাড়িয়ে গেছেন স্যামসন।

বোলিংয়ে খুব সাদামাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য কাল ব্যাট হাতে ২০০ পেরোনোর আশাও জাগিয়েছিল। ক্যারিবীয়দের প্রথম উইকেট নেওয়ার জন্যই ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ইনিংসের নবম ওভার পর্যন্ত। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ৩৩ বলে ৩২ রান করা হোপকে বোল্ড করেন বরুণ চক্রবর্তী। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেও তেমন স্বস্তি পাচ্ছিল না ভারত।

কারণ, ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছিল শিমরন হেটমায়ারের ঝড়। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ ছক্কার রেকর্ড গড়েন তিনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজও গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭০ (পরে তা হয়েছে ৭৬) ছক্কার রেকর্ড।

বুমরাকে তাই ফেরানো হয় ১২তম ওভারে। এক ওভারেই হেটমায়ারের পর চেজকেও (২৫ বলে ৪০) আউট করেন। একপর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৪ উইকেটে ১১৯।

সেখান থেকে রোভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার মিলে ৩৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়েন। তবু তাদের রানটা ২০০ পেরোতে পারেনি ১৯তম ওভারে অর্শ্বদ্বীপ সিং মাত্র ৬ রান দেওয়ায়। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৫ রানেই থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর।

ভারতের পক্ষে জনপ্রীতি বুমরাহ সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান। আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। তার আগের দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে প্রথম সেমিফাইনালে লড়াই করবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর