শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনৎ জয়সুরিয়া। তিনি জানিয়েছেন, চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকেই শুরু থেকেই নিজের শেষ দায়িত্ব হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন। শনিবার পাকিস্তানের কাছে পাঁচ রানের নাটকীয় হারের পর শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়, আর সেই ম্যাচের পরই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়সুরিয়া বলেন, এখন দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রায় দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সফরের সময়ই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দীর্ঘদিন কোচ হিসেবে থাকার পরিকল্পনা তার নেই। বিশ্বকাপে ভালো ফলের মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়ার আশা করেছিলেন তিনি, কিন্তু দল আগেভাগেই ছিটকে পড়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ শেষে উপস্থাপনায় জয়সুরিয়া বলেন, তিনি মনে করেছিলেন দায়িত্বটি অন্য কারও কাছে তুলে দেওয়া উচিত। তাই ইংল্যান্ড সিরিজের সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন যে এই পদে থাকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তার নেই। বিশ্বকাপের পর ভালোভাবে কোচ হিসেবে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যাশামতো তা হয়নি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে গত দেড় বছরে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
জয়সুরিয়া বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ানডে) শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছিল অষ্টম বা নবম স্থানে এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার যোগ্যতাও ছিল না। তার সময়ে দলকে তিনি চার নম্বরে তুলে আনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। টেস্ট ক্রিকেটে দলকে ছয় নম্বরে এবং টি–টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ বা সপ্তম স্থানে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে তার সময়কালে দলের জয়-পরাজয়ের গড় ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি একা নিতে চান না; সহকারী কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কোচ হিসেবে তার তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছিলেন, সেটির ওপর ভর করেই দল পরিচালনা করার চেষ্টা করেছেন। নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও বিশ্বকাপ যেভাবে শেষ হয়েছে, সেটি তাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছে বলেও জানান তিনি। জয়সুরিয়া আরও বলেন, তার চুক্তির মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হবে। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে (এসএলসি) কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। দেশে ফিরে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরপরই শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার সময়েই দল কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতের বিপক্ষে ২৭ বছর পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জেতে শ্রীলঙ্কা। পরের মাসে দ্য ওভালে টেস্টে স্মরণীয় জয় পায় দলটি। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজও জেতে তারা।
বিজ্ঞাপন
সমর্থকদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জয়সুরিয়া বলেন, শুরু থেকেই দর্শকরা দলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং মাঠে এসে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে দলের ব্যর্থতায় সমর্থকরা হতাশ বা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা দৈনন্দিন আলোচনায় সমালোচনাও করতে পারেন- এটাও তিনি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন।
জয়সুরিয়া বলেন, সমর্থকদের কাছে তিনি দুঃখিত। কারণ তারা দলটির ওপর বিশ্বাস রেখে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছেন। সেই সমর্থনের জন্য তিনি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকবেন। তবে দলের পারফরম্যান্সে তারা হতাশ বা রাগান্বিত হতে পারেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে গিয়ে সমালোচনা করতেই পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

