শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভারতীয় ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল জম্মু-কাশ্মির

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রথম রঞ্জি ট্রফি শিরোপা জিতে জম্মু-কাশ্মিরের ইতিহাস

জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেটের ইতিহাসে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে অভিষেকের পর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফিতে খেললেও এবারই প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল দলটি।

পারাস ডোগরার নেতৃত্বে তারকায় ঠাসা কর্নাটককে হারিয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমের রঞ্জি ট্রফি জিতে নেয় জম্মু ও কাশ্মীর। হুবলির কেএসসিএ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনাল আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়ালেও ম্যাচের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয়ে যায় চতুর্থ দিনের শুরুতেই। সেদিন পাঁচ উইকেট নিয়ে কর্নাটকের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিড এনে দেন আকিব নবি। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের হাতে।


বিজ্ঞাপন


ম্যাচের আগে বেশিরভাগ বিশ্লেষকই কর্নাটককে এগিয়ে রাখছিলেন। তাদের দলে ছিলেন কেএল রাহুল, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, দেবদত্ত পাডিক্কাল ও করুণ নাইরের মতো পরিচিত ক্রিকেটাররা। তবে কাগজে-কলমের হিসাব যে সব সময় মাঠে মেলে না, সেটিই দেখিয়ে দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর।

গুরুত্বপূর্ণ টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক ডোগরা। ম্যাচ যত এগোবে, উইকেট তত কঠিন হয়ে উঠতে পারে- এই ধারণা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগান জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে তারা তোলে ৫৮৪ রানের বড় সংগ্রহ।

প্রায় সাত সেশন ধরে বল করতে হয় কর্নাটকের বোলারদের। জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে সর্বোচ্চ ১২১ রান করেন শুভম পুন্দর। এছাড়া ডোগরা ৭০, ইয়াওয়ার হাসান ৮৮, আবদুল সামাদ ৬১, কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ৭০ এবং সাহিল লোত্রা ৭২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ইনিংস চলাকালে উত্তেজনাপূর্ণ একটি ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে বদলি ফিল্ডার কেভি অভনীশকে মাথা দিয়ে ধাক্কা দেন ডোগরা। পরে তিনি এটিকে ম্যাচের উত্তেজনার ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফি-এর অর্ধেক জরিমানা গুনতে হয় তাকে।


বিজ্ঞাপন


বল হাতে জম্মু ও কাশ্মীর ভরসা রেখেছিল তাদের পেসার আকিব নবির ওপর। দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই পেসার ফাইনালেও ছন্দ ধরে রাখেন। তিনি প্রথমে কেএল রাহুলকে ১৩ রানে আউট করেন। এরপর পরপর করুণ নাইর ও স্মরণ রবিচন্দ্রনকে ফিরিয়ে কর্নাটককে চাপে ফেলেন। তখন স্কোরবোর্ডে তাদের রান ছিল ৫৭/৪।

মায়াঙ্ক আগারওয়াল লড়াই চালিয়ে ১৬০ রান করলেও কর্নাটক শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ২৮০ রানের কিছু বেশি করে। নবি ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন, যা ছিল মৌসুমে তার সপ্তম পাঁচ উইকেট। এর মধ্য দিয়ে রঞ্জি ট্রফির এক মৌসুমে ৬০ উইকেটের বিরল মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে কর্নাটকের পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও বিজয়কুমার ভিশাক শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা দিলেও কামরান ইকবাল, আবদুল সামাদ ও সাহিল লোত্রা ইনিংস সামলে নেন। শেষ দিনে ইয়াওয়ার হাসান ও লোত্রা দুজনই সেঞ্চুরি করেন, যা কার্যত ম্যাচের ফল নিশ্চিত করে দেয়। কর্নাটকের প্রধান বোলাররা যখন ব্যর্থ, তখন উইকেট ভাঙার চেষ্টা করতে বল হাতে দেখা যায় রাহুল, নাইর ও আগারওয়ালকেও। শেষ পর্যন্ত ফল অনিবার্য বুঝে ম্যাচ শেষ ঘোষণা করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে জম্মু ও কাশ্মীর।

এরপর রঞ্জি ট্রফি হাতে তোলেন অধিনায়ক পারাস ডোগরা যা দল ও সমর্থকদের জন্য ছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে দুই দল করমর্দনের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের এই সাফল্যকে স্বীকৃতি জানায়। এই শিরোপা জয়ের পথে জম্মু ও কাশ্মীরের অভিযানও ছিল দুর্দান্ত। টুর্নামেন্টের শুরুতে মুম্বাইয়ের কাছে একমাত্র পরাজয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে মধ্যপ্রদেশ এবং সেমিফাইনালে বাংলা দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। এরপর কর্নাটককে হারিয়ে রূপকথার মতো অভিযানের পরিণতি টানে জম্মু ও কাশ্মীর।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর