বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রমজানে যেভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন ম্যানসিটির মুসলিম ফুটবলারর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

রমজানে যেভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন ম্যানসিটির মুসলিম ফুটবলারর

পবিত্র রমজান মাস চলছে বিশ্বজুড়ে। মুসলিম সম্প্রদায় সিয়াম পালন করছেন আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য। এই রোজার প্রভাব পড়েছে খেলাধুলার জগতেও, বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো ফুটবলে। পবিত্র রমজানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম পালন করেও ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ছন্দ ধরে রাখা সহজ নয়। তবু পেশাদারিত্ব, পরিকল্পনা আর ক্লাবের সহায়তায় সেই চ্যালেঞ্জই পরিণত হচ্ছে অনুপ্রেরণায়। এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি) এল্যান্ড রোডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫:৩০-এ শুরু হওয়া এই ম্যাচে সূর্যাস্ত হবে ৫:৪১ মিনিটে। ফলে ইফতারের সময় সাইডলাইনে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন সিটির মুসলিম খেলোয়াড়রা যেমন ওমর মারমুশ, রায়ান আইত-নুরি, রায়ান চেরকি ও আবদুকোদির খুসানভ। প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী এমন বিরতির অনুমতি রয়েছে, এবং লিডস কর্তৃপক্ষও এতে ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এ বিষয়ে পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা এই ধর্মীয় রীতিতে অভ্যস্ত এবং প্রিমিয়ার লিগের সময়সূচি পরিবর্তন সম্ভব না হলেও তারা জানেন কীভাবে নিজেদের সামলাতে হয়। ক্লাবের দক্ষ পুষ্টিবিদ ও ডাক্তাররা তাদের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়মিত মনিটর করে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করে দেন। গার্দিওলা আরও যোগ করেন, “এটা তাদের প্রথমবার নয়। তারা অভিজ্ঞ, এবং আমরা জানি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাতে হয়।”

ম্যানচেস্টার সিটি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে ‘মুসলিম চ্যাপলেইনস ইন স্পোর্টস’ সংস্থার সঙ্গে তারা কাজ করছে। এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ইসমাইল ভামজি নিয়মিত ক্লাবে আসেন, নামাজের ইমামতি করেন, ওয়ার্কশপ আয়োজন করেন এবং খেলোয়াড়-স্টাফদের ধর্মীয় ও মানসিক বিষয়ে পরামর্শ দেন। এমনকি গাজা সংকটের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তিনি নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

ক্লাবের ইতিহাসে মুসলিম খেলোয়াড়দের অবদান অসামান্য। ইয়াইয়া তোরে, ইলকায় গুন্দোয়ান, রিয়াদ মাহরেজের মতো তারকারা সিটির সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। ইয়াইয়া তোরের আপত্তির কারণেই প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে শ্যাম্পেনের পরিবর্তে ট্রফি দেওয়ার প্রথা শুরু হয়। এমনকি ট্রেনিং কিটের স্পন্সর জাপানি বিয়ার কোম্পানি হলেও মুসলিম খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে ‘জিরো পারসেন্ট’ (অ্যালকোহলমুক্ত) ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করা হয়।

রমজান শেষ হবে ২০ বা ২১ মার্চের দিকে, এবং তার পরপরই ইংল্যান্ডে পালিত হবে ঈদুল ফিতর। ঠিক তার পরের রোববার কারাবাও কাপ ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচে শিরোপা জিতলে তা হয়ে উঠতে পারে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ঈদের সবচেয়ে মধুর উপহার।


বিজ্ঞাপন


এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর