মেসি চলে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, বার্সেলোনার গ্লোবাল আকর্ষণ কমে যাবে। কিন্তু উয়েফার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন ইউরোপীয় ক্লাব ফাইন্যান্স এবং বিনিয়োগ ল্যান্ডস্কেপ ২০২৫ বলছে, ঠিক উল্টোটা হয়েছে। বার্সা এখন শুধু মাঠে নয়, বাণিজ্যিক জগতেও রাজত্ব করছে, বিশেষ করে জার্সি বিক্রি ও মার্চেন্ডাইজিংয়ের ক্ষেত্রে।
ইউরোপের শীর্ষ ২৫ ক্লাবের মধ্যে ২১টিই গত বছরের তুলনায় জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ থেকে আয় বাড়িয়েছে। আর এর মধ্যে ১৯টি ক্লাব তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বার্সেলোনা। গত অর্থবছরে এই খাতে তাদের আয়ের বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি। অন্য ক্লাবগুলো গড়ে ৬% বাড়ালেও বার্সার লাফ ছিল অনেক বড়।
বিজ্ঞাপন
কারণ, নাইকির সঙ্গে নতুন ১৪ বছরের চুক্তির প্রথম পূর্ণ বছর। এই চুক্তি বার্সেলোনাকে নতুন করে বুস্ট দিয়েছে, এবং ফলাফল দেখা যাচ্ছে জার্সি বিক্রির রেকর্ডে। জার্সি বিক্রি ও বিপণন মিলিয়ে ২৭৭ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি।
তালিকায় পরের অবস্থানে রিয়াল মাদ্রিদ ২৩১ মিলিয়ন ইউরো, বায়ার্ন মিউনিখ ১৮৯ মিলিয়ন ইউরো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১৭২ মিলিয়ন ইউরো, আর্সেনাল ১৫১ মিলিয়ন ইউরো, লিভারপুল ১৪৮ মিলিয়ন ইউরো। এরপর টটেনহ্যাম, গালাতাসারায়, চেলসি, পিএসজি, ম্যানসিটি সবাই অনেক পেছনে। বার্সার এই লিড দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ফুটবলের বাণিজ্যিক জগতে তারা এখনও অপ্রতিরোধ্য।
মেসির পর ক্লাবের পরিচয়টা বদলেছে। এখন আর বড় বড় তারকা কেনার ওপর নির্ভর নয় বার্সা, লা মাসিয়ার তরুণদের ওপর ভর করছে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম লামিনে ইয়ামাল। মাত্র কয়েক বছরেই সে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। নম্বর ১০ জার্সি পরে তার বিক্রি রেকর্ড গড়ছে। ফ্যানরা দেখছে একটা যুব-কেন্দ্রিক, আইডেন্টিটি-ভিত্তিক দল, যা মেসির যুগের মতোই আবেগ জাগায়।
রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে এমবাপের মতো সুপারস্টার কিনে ব্র্যান্ড চালাচ্ছে, সেখানে বার্সেলোনা প্রমাণ করছে নিজস্ব প্রতিভা দিয়েও গ্লোবাল মার্কেট জয় করা যায়।
বিজ্ঞাপন
উয়েফার প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের মোট রেভিনিউ ২০২৫-এ ৩০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। বাণিজ্যিক আয় ১০ বিলিয়নের ওপরে। আর এই প্রবৃদ্ধিতে বার্সেলোনা অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে।
এসটি

