পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি শোয়েব আখতার, যিনি ক্রিকেট ইতিহাসে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে ‘রও অফ এক্সপ্রেস’ নামে খ্যাত, সম্প্রতি এক টেলিভিশন শো-তে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯৮-৯৯ সালে পাকিস্তানের ভারত সফরের সময় তিনি এবং স্পিনার সাকলাইন মুস্তাক গোপনে ইনজেকশন ও ওষুধ নিয়ে মাঠে নামতেন। এই সিরিজে শোয়েবের গতি এবং সাকলিনের স্পিন ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শোয়েব জানান, তার হাঁটু ফুলে থাকত এবং তরল জমে যাওয়ায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হতো। সাকলিনের হাঁটু তো ১৯৯৬ সালেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, আর তার নিজেরটা ১৯৯৭ সালে। খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দু’জনেই লুকিয়ে পিলস (ওষুধ) খেতেন এবং ইনজেকশন নিতেন। তিনি বলেন, “আমার হাঁটু থেকে তরল বের করে ইনজেকশন দিয়ে খেলতে নামতাম। যদি কোনো সিনিয়র জানতে পারত, তাহলে সাকলিনকে তো ছুঁড়ে ফেলে দিত। আর আমি তো আগে থেকেই টার্গেটে ছিলাম।”
বিজ্ঞাপন
এই গোপনীয়তার কারণ ছিল দলের ভেতরের চাপ এবং সম্ভাব্য শাস্তির ভয়। তবে শোয়েব স্পষ্ট করে দেননি যে এগুলো নিষিদ্ধ পদার্থ ছিল কি না। ক্রিকেটে ডোপ টেস্টের নিয়ম থাকায় নিষিদ্ধ ড্রাগের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভবত এগুলো ছিল পেইনকিলার বা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ইনজেকশন, যা চোটের যন্ত্রণা কমাতে ব্যবহার করা হতো।
টেলিভিশন শো-তে শোয়েব মজা করে আরও বলেন, ওই সিরিজে তার এবং সাকলিনের মধ্যে একটা মজার চ্যালেঞ্জ চলত শচীন টেন্ডুলকারের উইকেট কে নেবে। যে ম্যাচে সাকলিন শচীনকে আউট করত, পরের ম্যাচে শোয়েব বলতেন, “এবার শচীন আমার শিকার।” এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই দু’জনেই চরম শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে খেলে গিয়েছেন।
১৯৯৮-৯৯ সালের ভারত সফর পাকিস্তানের জন্য ঐতিহাসিক ছিল। শোয়েবের গতি ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এখন ২৭ বছর পর এই স্বীকারোক্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের কী ধরনের ত্যাগ ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। শোয়েবের গতি শুধু প্রাকৃতিক প্রতিভা নয়, চোটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফসলও ছিল।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনা ক্রিকেটের অন্ধকার দিকও তুলে ধরে, চোট নিয়ে খেলার চাপ, গোপন চিকিৎসা এবং দলের ভেতরের রাজনীতি। তবে শোয়েবের কথায় কোনো নিষিদ্ধ ড্রাগের সরাসরি উল্লেখ নেই, বরং চোট সামলানোর জন্য চিকিৎসা নেওয়ার কথাই প্রধান।
এসটি

